Thursday, 30 September 2021

ধৈর্যের কি কোন সীমা আছে

 আর কত, ধৈর্যের তো একটা সীমা আছে তাই না?!

একের পর এক সমস্যা লেগেই আছে, আর কত পরীক্ষা দিতে হবে? আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই এরকম কিছু আক্ষেপ আছে, প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু অভিযোগ অভিমান আছে; কেউ প্রকাশ করে আর কেউ করে না! তবে আমরা ধৈর্যের প্রতিদান সম্পর্কে জানিনা, জানলে হয়তোবা আক্ষেপ ই করতাম না!

মহান আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন,

হে বিশ্বাসিগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং ধৈর্য ধারণে প্রতিযোগিতা কর। (সূরা আলে ইমরান:২০০)

কেবল ধৈর্যশীলদেরকেই তাদের প্রতিদান পূর্ণরূপে দেয়া হবে কোন হিসাব ছাড়াই। (সূরা যূমার:১০)

নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা দ্বারা এবং কিছু ধনপ্রাণ এবং ফলের (ফসলের) লোকসান দ্বারা পরীক্ষা করব; আর তুমি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দাও। (সূরা বাকারাহ:১৫৫)

রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

মুসলিম ব্যক্তির ওপর যে কষ্ট-ক্লেশ, রোগ-ব্যাধি, উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা, দুশ্চিন্তা, কষ্ট ও পেরেশানি আসে, এমনকি যে কাঁটা তার দেহে ফোটে, এসবের মাধ্যমে আল্লাহ তার গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেন। (বুখারি:৫৬৪১)

যে ব্যক্তি ধৈর্য ধরতে চেষ্টা করবে, আল্লাহ তাকে ধৈর্য ধরতে সাহায্য করবেন। আর ধৈর্যের চেয়ে অধিক উত্তম ও ব্যাপক দান কাউকে দেওয়া হয়নি। (হাদিস সম্ভার:১০০২)


Wednesday, 29 September 2021

কেয়ামত সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা যা বলেছেন

 একের পর এক আমরা গুনাহে জড়িয়ে যাই, অনিচ্ছাসত্ত্বেও গুনাহ হয়ে যায়, আমরা মনে করি "আচ্ছা এখন যা হবার হয়েছে, তাওবাহ করে নিব"!

কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তাওবাহ করার মতো সুযোগ এবং সময় আমরা পাবো তা কিভাবে নিশ্চিত হলাম? এক মিনিট পরে আমি যে বেচে থাকব তারই বা কি নিশ্চয়তা আছে?

ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন :

মানুষ বলে যে, খারাপ কাজ করতে থাকব, অতঃপর কিয়ামতের পূর্বে তাওবা করে নেব।

(ইবনু কাসীর)

অথচ কেয়ামত সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেনঃ

কিয়ামতের আতংকে চক্ষু স্থির হয়ে যাবে আর পলক পড়বে না।

(সূরা আল-কিয়ামাহ:৭; সূরা ইবরাহীম:৪২)

হে আল্লাহ! আপনি রহম করুন, হেফাজত করুন।

أَسْتَغْفِرُ الله، أَسْتَغْفِرُ الله

‘আস্তাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ।’ (অর্থাৎ আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি।)

মুসলিম ৫৯১, তিরমিযী ৩০০, আবূ দাউদ ১৫১২, ইবনু মাজাহ ৯২৮, আহমাদ ২১৯০২, দারেমী ১৩৪৮।


Tuesday, 28 September 2021

সূরা তাকাসূর

 সুরা তাকাসুর পবিত্র কুরআনের ১০২ তম সুরা। এ সুরায় রয়েছে ৮ আয়াত। এই সুরায় মহান আল্লাহ সন্তান-সন্ততি ও ধনসম্পদের মত ধ্বংসশীল বিষয় নিয়ে গর্ব করার বিষয়ে মানুষকে তিরস্কার করেছেন।


بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

In the Name of Allah, the Most Beneficent, the Most Merciful.


اَلۡہٰکُمُ  التَّکَاثُرُ ۙ﴿۱﴾

আলহা-কুমুত্তাকা-ছু র।

প্রাচুর্যের প্রতিযোগিতা তোমাদেরকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে,

The mutual rivalry for piling up of worldly things diverts you,


حَتّٰی زُرۡتُمُ  الۡمَقَابِرَ ؕ﴿۲﴾

হাত্তা-ঝুরতুমুল মাকা-বির।

যতক্ষণ না তোমরা কাবরসমূহে উপস্থিত হচ্ছ।

Until you visit the graves (i.e. till you die).


کَلَّا  سَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ۙ﴿۳﴾

কাল্লা-ছাওফা তা‘লামূন।

এটা সংগত নয়, তোমরা শীঘ্রই এটা জানতে পারবে।

Nay! You shall come to know!


ثُمَّ  کَلَّا سَوۡفَ تَعۡلَمُوۡنَ ؕ﴿۴﴾

ছু ম্মা কাল্লা-ছাওফা তা‘লামূন।

আবার বলি, এটা সংগত নয়, তোমরা শীঘ্রই এটা জানতে পারবে।

Again, Nay! You shall come to know!


کَلَّا لَوۡ تَعۡلَمُوۡنَ عِلۡمَ  الۡیَقِیۡنِ ؕ﴿۵﴾

কাল্লা-লাও তা‘লামূনা ‘ইলমাল ইয়াকীন।

সাবধান! তোমাদের নিশ্চিত জ্ঞান থাকলে অবশ্যই তোমরা মোহাচ্ছন্ন হতেনা।

Nay! If you knew with a sure knowledge (the end result of piling up, you would not have occupied yourselves in worldly things)


لَتَرَوُنَّ  الۡجَحِیۡمَ ۙ﴿۶﴾

লাতারাউন্নাল জাহীমা

তোমরাতো জাহান্নাম দেখবেই।

Verily, You shall see the blazing Fire (Hell)!


ثُمَّ لَتَرَوُنَّہَا عَیۡنَ الۡیَقِیۡنِ ۙ﴿۷﴾

ছু ম্মা লাতারাউন্নাহা-‘আইনাল ইয়াকীন।

আবার বলি, তোমরাতো ওটা দেখবেই চাক্ষুষ প্রত্যয়ে।

And again, you shall see it with certainty of sight!


ثُمَّ لَتُسۡـَٔلُنَّ یَوۡمَئِذٍ عَنِ النَّعِیۡمِ ٪﴿۸﴾

ছু ম্মা লাতুছআলুন্না ইয়াওমাইযিন ‘আনিন্না‘ঈম।

এরপর অবশ্যই সেদিন তোমরা সুখ সম্পদ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসিত হবে।

Then, on that Day, you shall be asked about the delight (you indulged in, in this world)!,


Scorching Sun

Monday, 27 September 2021

মা বাবার জন্য দোয়া

 রব্বির হামহুমা কামা রব্বা ইয়ানী স্বগীরা।

আল্লাহ পৃথিবীর সকল বাবা মাকে সুস্থ রাখুক ভালো রাখুক।প্রতিটা প্রিয় মানুষকে আল্লাহ সুস্থ রাখুক এটাই আমার এই জীবনে আল্লাহর কাছে শেষ চাওয়া।😢💔

Sunday, 26 September 2021

কিয়ামতের দিন যারা অন্ধ হয়ে উঠবে

 -কিয়ামতের দিন যারা অন্ধ হয়ে উঠবে।


.


দৃষ্টিশক্তি মহান আল্লাহর অমূল্য নিয়ামত। কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে এটাকে হিদায়াত, ঈমান গ্রহণ, উপদেশ ও শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। যেমন—সুরা বালাদে মহান আল্লাহ বলেন, ‘আমি কি তোমাদের চক্ষু দিইনি?’ 


__________(সুরা বালাদ, আয়াত : ৮)


.



পবিত্র কোরআনের এই সুরায় মহান আল্লাহ মানুষকে হিদায়াত গ্রহণের জন্য সহায়ক যেসব নিয়ামত দিয়েছেন, তাতে চোখের কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন। যারা এই নিয়ামতের শুকরিয়া করবে না, কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ তাদের অন্ধ অবস্থায় উঠাবেন। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘আর যে আমার স্মরণ থেকে বিমুখ থাকবে, নিশ্চয়ই তার জীবনযাপন হবে সংকুচিত এবং আমি তাকে কিয়ামতের দিন জমায়েত করব অন্ধ অবস্থায়। সে বলবে, হে আমার রব, কেন আপনি আমাকে অন্ধ অবস্থায় উঠালেন? অথচ আমি তো ছিলাম দৃষ্টিশক্তিসম্পন্ন! তিনি বলবেন, এভাবেই আমার নিদর্শনাবলি তোমার কাছে এসেছিল; কিন্তু তুমি তা ছেড়ে দিয়েছিলে এবং সেভাবে আজ তোমাকেও (জাহান্নামে) ছেড়ে দেওয়া হবে।’ 


______________(সুরা : ত্বহা, আয়াত : ১২৪-১২৬)


.



অন্য আয়াতে এসেছে, ‘আর আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন সে-ই হিদায়াতপ্রাপ্ত এবং যাকে তিনি পথহারা করেন তুমি কখনো তার জন্য তাঁকে ছাড়া অভিভাবক পাবে না। আর আমি (আল্লাহ) কিয়ামতের দিন তাদের একত্র করব উপুড় করে, অন্ধ, মূক ও বধির অবস্থায়। তাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম। যখনই তা নিস্তেজ হবে তখনই আমি তাদের জন্য আগুন বাড়িয়ে দেব।’ 


______________(সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৯৭)


.



অর্থাৎ দুনিয়ায় তারা যে অবস্থায় ছিল—সত্যকে দেখতে পেত না, সত্য কথা শুনতে পেত না এবং সত্য কথা বলত না; ঠিক তেমনি কিয়ামতের দিন তাদের উঠানো হবে। অনেক তাফসিরবিদের মতে, এখানে বাহ্যিক দৃষ্টিহীনতার কথা বলা হয়নি; বরং অন্ধ দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, অন্তরের দৃষ্টিশক্তিহীনতা। কারণ পবিত্র কোরআনের এক আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে, ‘তারা কি দেশ ভ্রমণ করেনি? তাহলে তারা জ্ঞানবুদ্ধিসম্পন্ন হৃদয় ও শ্রুতিশক্তিসম্পন্ন শ্রবণের অধিকারী হতে পারত। বস্তুত চোখ তো অন্ধ নয়, বরং অন্ধ হচ্ছে বুকের মধ্যে অবস্থিত হৃদয়।’


____________ (সুরা হজ, আয়াত : ৪৬)


.



তাদের অন্ধত্ব হৃদয়ের চোখের হোক আর চর্মচোখের, কিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি যে ভয়াবহ হবে, এ কথা নিশ্চিত। পবিত্র কোরআনের একটি আয়াতে বলা হয়েছে যে সেদিন তাদের চেহারার ওপর ভর করে আল্লাহর সামনে হাজির করা হবে। ইরশাদ হয়েছে, ‘যাদের মুখের ওপর ভর দিয়ে চলা অবস্থায় জাহান্নামের দিকে একত্র করা হবে, তারা স্থানের দিক থেকে অতি নিকৃষ্ট এবং বেশি পথভ্রষ্ট।’


__________ (সুরা ফুরকান, আয়াত : ৩৪)


.



মহান আল্লাহ সবাইকে হিদায়াত নসিব করুন। কিয়ামতের বিভীষিকাময় পরিস্থিতি থেকে রক্ষা করুন। 


Saturday, 25 September 2021

বান্দার হক

 হক দুই প্রকার :


এক. আল্লাহর হক :

আল্লাহর হক নষ্ট করলে আল্লাহ চাইলে শিরক ব্যতীত অন্য যে কোনো গুনাহ ক্ষমা করতে পারেন বলে আমাদের বলেছেন! নিশ্চয় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন না, যে তার সঙ্গে কাউকে শরীক করে! এছাড়া যাকে ইচ্ছা, ক্ষমা করেন! যে আল্লাহর সঙ্গে শরীক করে সে সুদূর ভ্রান্তিতে পতিত হয়! (সূরা নিসা: ১১৬)


দুই. বান্দার হক :

বান্দার হক নষ্ট করার গুনাহ ক্ষমা করার এখতিয়ার আল্লাহ নিজ হাতে রাখেননি! যেমন, আমি যদি একজনকে ধোঁকা দিয়ে ১ টি টাকাও নিয়ে নিই, কোনো কথা বা গালির সাহায্যে মনে কষ্ট দেই, তবে একমাত্র সেই লোক (যার হক নষ্ট করলাম) সে বাদে আর কেউ ক্ষমা করতে পারবে না!


বান্দার হকের গুরুত্ব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সা:) বলেন,


প্রকৃত মুসলিম সেই ব্যক্তি, যার কথা ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ থাকে! আর মুহাজির সেই ব্যক্তি, আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা যে পরিত্যাগ করে! (সহীহুল বুখারী: ৬৪৮৪)


অন্যত্র রাসূল ( সা:) বলেন,

একজন মানুষের মন্দ হওয়ার জন্য এতটুকু যথেষ্ট যে, সে তার মুসলিম ভাইকে হেয় মনে করে! এক মুসলিমের রক্ত, সম্পদ ও মান-সম্মান অন্য মুসলিমের জন্য হারাম! (সহিহ মুসলিম: ৬৪৩৫


মহান আল্লাহ, সুরা হুজুরাত-এর পরপর তিনটি আয়াতে হাক্কুল ইবাদ বা বান্দার হক সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করছেন!

ঝগড়া হলে মীমাংসা করে নেয়াঃ-


নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই, তাই তোমাদের ভাইদের মধ্যে মীমাংসা করে দাও আর আল্লাহকে ভয় কর যেন তোমরা রহমতপ্রাপ্ত হও! (আল-হুজুরাত, ৪৯/১০)


Scorching Sun

Friday, 24 September 2021

দান ও সদকার মধ্যে প্রার্থক্য কী?হিল্লা বিয়ে কি জায়েজ?মৃত ব্যক্তির জন্য নামাজ ও কোরআন পড়া কি ঠিক?কোরআন পড়ার প্রতি আমার অনীহা হচ্ছে, এর কারণ কী? এখন আমার কী করা উচিত?

 গুরত্বপূর্ণ ৪টি প্রশ্ন-উত্তর


১.প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য নামাজ ও কোরআন পড়া কি ঠিক?


উত্তর : মৃত ব্যক্তির জন্য নামাজ ও কোরআন পড়া জায়েজ নেই। এগুলো আল্লাহর জন্য পড়া হয়, কোনো মানুষের জন্য। কোনো ব্যক্তির জন্য নামাজ, রোজা, কোরআন পড়া জায়েজ নেই। বরং এসব করলে এগুলো বেদআত হবে। আপনি এসব ইবাদত করবেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। এসব ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্য। আপনি যেটা করতে পারেন সেটা হলো, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করতে পারেন। দান-সদকা করতে পারেন, এসব মৃত ব্যক্তির জন্য করতে পারেন।


২.হিল্লা বিয়ে কি জায়েজ? 


উত্তর : হিল্লা বিয়ে নামে আমাদের সমাজে যে প্রচলন রয়েছে, এটা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। এটি একটি সামাজিক অনাচার। এটাকে বিয়ে বলা হয়ে থাকে, কিন্তু এটি একটি হারাম কাজ। যিনি এই বিয়ে করবেন, তিনি হারাম কাজ করবেন। এমনকি এই বিয়ের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত থাকবেন, তাঁরা অভিশপ্ত হবেন। আর, যার উদ্দেশ্যে এই বিয়ে করা হবে, তিনিও অভিশপ্ত হবে। এটি একটি অনাচার। সুতরাং এ ধরনের হিল্লা বিয়ের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁরা সবাই গুনাহগার হবেন। ইসলামের ভাষায় তাঁরা অভিশপ্ত। এটা যদি কোনো সমাজে প্রচলিত থাকে, তাহলে সে সমাজ অনাচারে লিপ্ত। এই অনাচার থেকে আল্লাহ রক্ষা করুন।


৩.প্রশ্ন : দান ও সদকার মধ্যে প্রার্থক্য কী?


উত্তর : দান হচ্ছে কাউকে আপনি কোনো কিছু দিলেন সেটা। এটা দুই ধরনের হতে পারে। একটা হলো কিছুর বিনিময়ে দান করা আবার বিনিময় ছাড়াও দান হতে পারে। এই দুটোই দান করা। সদকা একটি ব্যাপক অর্থবোধক বিষয়। সদকা হলো এমন কাজ যেটা আপনি আপনার কল্যান বা সমাজের অন্য কারো কল্যান উদ্দেশ্য করে দিয়ে থাকেন সেটা। এটা দানের মাধ্যমে হতে পারে, সুপারিশের মাধ্যমে হতে পারে, কাজের মাধ্যমে হতে পারে। যে কাজটি ভালো ও কল্যানকর সেটাই সদকা। এই সদকা শুধু অর্থ দেওয়া বা দানের মাধ্যমে করবেন এমন নয়। এটির ব্যাপক অর্থ। আপনি যদি ছোট্ট একটু কথা দিয়েও কাউকে আনন্দ দিতে পারেন তাহলে সেটিও সদকা। সুতরাং সদকা হলো যে কোনো কল্যানকর কাজ। এটা পরিসর ব্যাপক।


৪.প্রশ্ন :  কোরআন পড়ার প্রতি আমার অনীহা হচ্ছে, এর কারণ কী? এখন আমার কী করা উচিত?


উত্তর : কোরআন পড়ার প্রতি কেন আপনার অনীহা সেটার কারণ আপনার নিজের মধ্যেই আছে। আমার মনে হচ্ছে, দুটি জিনিসে আপনি আসক্ত আছেন। একটি হলো, আপনি কঠিন পাপাচারে আসক্ত আছেন। দ্বিতীয়টি হলো, আল্লাহর ভয় এবং ঈমান যেভাবে জাগ্রত হওয়ার কথা সেভাবে আপনার জাগ্রত হয়নি। এজন্য আপনাকে বলব, আপনি ইসলামের চর্চা বেশি করে করুন, ঈমান আনার চেষ্টা করুন, হাদিস জানার চেষ্টা করুন। এগুলো দিয়ে নিজের অন্তরটা ঈমানে পরিপূর্ণ করার চেষ্টা করুন। কোরআন পাঠে অনীহা এটা ভয়ংকর কথা। এটা অনেক চিন্তার ব্যাপারও বটে। যে জন্য বলব, অপরাধ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন। এগুলোর জন্য আপনার ঈমান কমতে থাকে। ঈমান কমতে কমতে আর কিছু থাকে না। তখন আর কিছুই ভালো লাগবে না। এই বার্তা শুধু আপনার জন্য না, সবার জন্যই। সবচেয়ে বড় কথা হলো, গুনাহ থেকে সরে আসতে হবে।


(এনটিভির অনলাইন ডেস্ক -উত্তর দিয়েছেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।)


Scorching Sun

Thursday, 23 September 2021

জুমার দিনের আমল

 জুমু'আর দিনে বা শুক্রবারে একজন নারীও বিভিন্ন আমল এবং কাজ-কর্মের মাধ্যমে অসংখ্য সোওয়াব অর্জন করতে পারেন!


ফজরের সালাত আদায় করুন, না ঘুমিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করুন; বিশেষ করে সূরা আল-কাহফ।

◉ যে ব্যক্তি জুমআর দিন সূরা কাহফ পাঠ করে, সে ব্যক্তির জন্য দুই জুমআর মধ্যবর্তী কাল জ্যোতির্ময় হয়ে যায়।

(হাদিস সম্ভার:১৪৫৭)


◉ যে ব্যক্তি সুরা কাহফের প্রথম দিক থেকে দশটি আয়াত মুখস্থ করবে, সে দাজ্জালের (ফিৎনা) থেকে পরিত্রাণ পাবে।

অন্য বর্ণনায় ‘কাহফ সূরার শেষ দিক থেকে’ উল্লেখ হয়েছে। 

(মুসলিম:১৯১৯, হাদিস সম্ভার:১৪৫৬)


তবে, মুখস্থ করে নেওয়া উত্তম।


জুমু'আর আযানের অন্তত ১ঘন্টা পূর্বে স্বামীকে রেডি হবার জন্য তাকীদ দিন, সাহায্য করুন, জোর দিন। উত্তম পোশাক, সুগন্ধি সামনে রেডি করে রাখুন। সর্বোপরি আযানের পূর্বেই যেনো মসজিদে যেতে দেরি না হয় সেদিকে বিশেষ নজর রাখুন।


সাংসারিক কাজ-কর্ম গুছিয়ে রাখুন, এতে আমল-ইবাদাত করতে সুবিধা হবে। বিশেষ করে আসর ওয়াক্ত থেকে  মাগরিব পর্যন্ত সম্পুর্ন ফ্রি থাকা যায় এমন ব্যবস্থা করে রাখুন।


◉ উত্তম কাজের প্রতিদান উত্তম ছাড়া আর কী হতে পারে ? (সূরা আর-রহমান:৬০)


আসর সালাত আদায় করে উক্ত স্থানেই বসে বসে যিকর-দুয়া করুন, মাগরিবের সালাতের অপেক্ষারত অবস্থায় থাকার সর্বাত্মক চেষ্টা করুন।


আসর থেকে মাগরিব এর মধ্যকার সময়ে যত দুয়া পারেন পড়তে থাকুন, বেশি বেশি ইস্তিগফার এবং দুরুদ পড়ুন।

◉ বেশি দরুদ পাঠে রাসূলের শাফা‘আত নসিব হয় এবং রাসূলের কাছে দরুদ পেশ করা হয়। [আবু দাউদ: ১০৪৭, তিরমিযি: ৪৮৪]

◉ জুমু‘আর দিনে বেশি দরুদ পড়লে আল্লাহর নবী তার জন্য শাফায়াতকারী ও সাক্ষী হবেন। [বায়হাকি: ২৭৭১]


আসরের শেষ থেকে মাগরিব পর্যন্ত দুয়া কবুল হবে বলে সহীহ্ হাদিসে এসেছে, তাই আল্লাহর কাছে চাইতে থাকুন। দু'হাত তুলে দুয়া করুন, কেঁদেকেটে অনুনয়-বিনয় করে দুয়া করুন, আল্লাহ শুনছেন এবং দুয়া কবুল করবেন এমন আশা নিয়ে দুয়া করুন।

◉ আসরের শেষ সময়ে মাগরিবের পূর্বে দু‘আ কবুল হয়। [আবু দাউদ: ১০৪৮]


সব সময় মনে রাখবেন, স্বামী এবং পরিবারের সদস্যদের নেক কাজে, আমল-ইবাদাতে সাহায্য এবং উৎসাহ দিলে আপনিও উক্ত আমল-ইবাদাতের সমপরিমান সোওয়াব পাবেন ইনশাআল্লাহ।


◉ আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ‘যে ব্যক্তি কোন সৎকাজে অপরকে উদ্বুদ্ধ করে, সেও ততটুকু সওয়াব পায়, যতটুকু সৎকর্মী পায়।’ [মুসলিমঃ ১৮৯৩]


আল্লাহুম্মা সল্লি ‘আলা মুহাম্মাদ।

Wednesday, 22 September 2021

সূরা ইখলাসের ফজিলত

 সূরা ইখলাসের ফজিলত


সূরা ইখলাস-এর ভাব ও মর্মার্থ বুঝে পড়লে তাতে বান্দার অন্তরে আল্লাহর গুণাবলী গেঁথে যাবে। মনে প্রাণে ওই ব্যক্তি হয়ে উঠবে শিরকমুক্ত ঈমানের অধিকারী হবে। আর তার বিনিময়ে সে লাভ করবে দুনিয়া ও পরকালের অনেক উপকারিতা ও ফজিলত।


একবার এক সাহাবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি সুরা ইখলাসকে ভালোবাসি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বলেন, এ ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। ’ (বুখারি, তিরমিজি)


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২০০ বার সুরা ইখলাস পড়বে, তার ৫০ বছরের গোনাহ ক্ষমা করে দেয়া হবে। তবে ঋণগ্রস্ত হলে তা ক্ষমা হবে না।  (তিরমিজি)


হযরত সাহল ইবন সাদ সায়েদি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে দারিদ্র্যতার অভিযোগ করল তিনি বললেন, ‘যখন তুমি ঘরে যাও তখন সালাম দেবে এবং একবার সূরা ইখলাস পড়বে। এ আমল করার ফলে কিছু দিনের মধ্যে তার দারিদ্র্যতা দূর হয়ে যায়।  (তাফসিরে কুরতুবি)


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি সকাল-সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, ফালাক ও নাস পাঠ করে তা তাকে বালা-মসিবত থেকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য যথেষ্ট হয়। ’ (ইবনে কাসির)


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে সুরা ইখলাস তেলাওয়াত করতে শুনলেন। তিনি বললেন, ‘এটা তার অধিকার। ’ সাহাবারা জিজ্ঞাসা করলেন, তার অধিকার কী? তিনি উত্তরে বললেন- ‘তার অধিকার হচ্ছে জান্নাত। ’ (মুসনাদে আহমাদ)


আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে সুরা ইখলাসের ভাব ও মর্মার্থ নিজেদের মধ্যে ধীর বিশ্বাস স্থাপন করার তাওফিক দান করুন।


Scorching Sun

Tuesday, 21 September 2021

সূরা আল কাফিরুন (আরবি, বাংলা অনুবাদ, ইংরাজী রিপোর্ট এবং সুরা কাফিরুন শিক্ষা)

 সূরা আল কাফিরুন (আরবি, বাংলা অনুবাদ, ইংরাজী রিপোর্ট এবং সুরা কাফিরুন শিক্ষা)


 সূরা আল কাফিরুন (আরবি: سورة الكافرون) মহান কুরআনের ১০৯ তম সূরা।  সূরাটারি আয়াত সংখ্যা।  সূরাটি মক্কা অবতীর্ণ হয় তাই সূরাটি মাক্কি সূর্য শ্রেণীভুক্ত  আজকের এই সূর্য তৎপরতার অনেক কারণ।


 بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

 বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

 শুরু হচ্ছে দুর্বার তারিখ পরম করুণাময়, শেষ দয়ালু।

 পরম করুণাময়, অতি দয়ালু আল্লাহর নামে।


 قُلۡ يٰۤاَیُّہَا الۡکٰفِرُوۡنَ

 কুল ইয়াহুহাল কা-ফিরূন।

 বলি হে কাফিরেরা!

 এই মুশরিকুন ও কাফিরুনদের (হে মুহাম্মদ (সা।)) বলুন: হে আল কাফিরুন (আল্লাহর প্রতি অবিশ্বাসী, তাঁর একত্ববাদে, তাঁর ফেরেশতাদের মধ্যে, তাঁর বইয়ে, তাঁর রসূলদের মধ্যে, কিয়ামতের দিনে এবং  আল-কদর, ইত্যাদি)!


 لَاۤ اَعۡبُدُ مَا تَعۡبُدُوۡنَ

 লাআবুদুমা-তা‘বুদূন।

 আমি তার ইবাদাত করিনা যার ইবাদাত তুমি কর,

 আমি তোমার ইবাদত করি না যার পূজা করো,


 وَ لَاۤ اَنۡتُمۡ عٰبِدُوۡنَ مَاۤ اَعۡبُدُ

 ওয়ালাআনাতুম ‘আ-বিদূনা মাআবুদ।

 আমি তোমাদেরকে,

 আমিও যে পূজা করি তার পূজা করবে না।


 وَ لَاۤ اَنَا عَابِدٌ مَّا عَبَدۡتُّمۡ

 ওয়ালাআনা ‘আ-বিদুম মা-‘আবাত্তুম,

 এবং আমি ইবাদাতকারী নই যার ইবাদত তুমি করবে,

 আর আমি যা পূজা করছি তা পূজা করব না।


 وَ لَاۤ اَنۡتُمۡ عٰبِدُوۡنَ مَاۤ اَعۡبُدُ

 ওয়ালাআনাতুম ‘আ-বিদূনা মাআবুদ।

 আর আমি তাঁর ইবাদাতকারী নও যাঁরা ইবাদাত আমি করি।

 আমিও যে পূজা করি তার পূজা করবে না।


 لَکُمۡ دِیۡنُکُمۡ وَلِیَ دِیۡنِ ٪

 লাকুম দীনুকুম ওয়ালিয়া দীন।

 তারা আমার কর্মচারী এবং আমার জন্য কর্মরত।

 তোমার কাছে তোমার ধর্ম, আর আমার কাছে আমার ধর্ম (ইসলামী একেশ্বরবাদ)।


 সূরা কাফিরুন থেকে যে বিষয়গুলি শিখতে হবে


 ১) এককভাবে আল্লাহ্ ইর জন্য ইবাদাত খালেছ বা একনিষ্ঠ করা হচ্ছে


 ২) শুর এবং তার অনুসরণকারীরা সম্পূর্ণ সম্পর্কযুক্ত হতে পারে।


 সূর) এই সূর্যটি বিভিন্ন ধর্মের দিক থেকে বেরিয়ে আসবে।  বাংলা অনুবাদ  তাই ইসলামী রাষ্ট্র ধর্ম।


 াম) ইমাম শাফায়ী (রঃ) (لكم دينكم ولي دين) “দ্বীন আমার জন্য।”  এই আয়াত থেকে এই দলিল সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, একই কাফের ধর্ম।

Monday, 20 September 2021

সূরা আন নাসর(আরবি,বাংলা অনুবাদ, ইংরাজি অনুবাদ এবং সূরা নাসরের শিক্ষা)

 সূরা আন নাসর (আরবি: سورة النصر‎‎ ) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ১১০ তম সূরা। তাফসীরকারীদের সর্বসম্মত অভিমত এই যে, সূরাটি মদীনায় অবতীর্ণ এবং এর আয়াত সংখ্যা ৩টি। সূরা নছর-এর অপর নাম সূরা "তাওদী"। ... এ সূরায় রসূলে কারীম-এর ওফাত নিকটবর্তী হওয়ার ইঙ্গিত আছে বিধায় এর নাম "তাওদী" হয়েছে।

সূরা আন নাসর:


بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

In the Name of Allah, the Most Beneficent, the Most Merciful.


اِذَا  جَآءَ  نَصۡرُ اللّٰہِ  وَ  الۡفَتۡحُ ۙ﴿۱﴾

ইযা-জাআ নাসরুল্লা-হি ওয়াল ফাতহ।

যখন আসবে আল্লাহর সাহায্য ও বিজয়,

When comes the Help of Allah (to you, O Muhammad (Peace be upon him) against your enemies) and the conquest (of Makkah)


وَ  رَاَیۡتَ النَّاسَ یَدۡخُلُوۡنَ فِیۡ  دِیۡنِ اللّٰہِ  اَفۡوَاجًا ۙ﴿۲﴾

ওয়ারাআইতান্না-ছা ইয়াদখুলূনা ফী দীনিল্লা-হি আফওয়া-জা-।

এবং তুমি মানুষকে দলে দলে আল্লাহর দীনে প্রবেশ করতে দেখবে,

And you see that the people enter Allah's religion (Islam) in crowds,


فَسَبِّحۡ  بِحَمۡدِ رَبِّکَ وَ اسۡتَغۡفِرۡہُ  ؕؔ اِنَّہٗ کَانَ  تَوَّابًا ٪﴿۳﴾

ফাছাব্বিহবিহামদি রাব্বিকা ওয়াছতাগফিরহু ইন্নাহূকা-না তাওওয়া-বা-।

তখন তুমি তোমার রবের কৃতজ্ঞতা মূলক পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা কর এবং তাঁর সমীপে ক্ষমা প্রার্থনা কর; তিনিতো সর্বাপেক্ষা অধিক অনুতাপ গ্রহণকারী।

So glorify the Praises of your Lord, and ask for His Forgiveness. Verily, He is the One Who accepts the repentance and forgives.


সূরা নাসরের শিক্ষা ;

১. বিজয় আল্লাহর পক্ষ থেকে:-সকল বিজয় ও সাহায্য একমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। তিনি যখন চাইবেন। যে মাধ্যমে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। এবং যে উদ্দেশ্যের জন্য তিনি নির্ধারিত করবেন। সেসময়, সেই মাধ্যমে ও সেই উদ্দেশ্যে আল্লাহর পক্ষ থেকে এই সাহায্য ও বিজয় আসবে।


২. আল্লাহর প্রশংসা:- বিজয় ও সাহায্য আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার কারণেই আমাদের উচিত বেশি বেশি তার প্রশংসাসহ তাসবীহ পাঠ করা। পাশাপাশি বিজয়ের জন্য নিজেদের যোগ্যতার বৃদ্ধি ও তার পক্ষ থেকে সাহায্য চেয়ে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা উচিত।


৩. আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা:- বিজয়ের মুহূর্তে আনন্দে আত্মহারা না হয়ে এই সূরায় আল্লাহর প্রশংসা এবং নিজেদের অপূর্ণতা ও ত্রুটির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে প্রার্থনা করার কথা বলা হয়েছে। কোন অত্যাচার বা শাস্তির মুখে পরাজিতরা কখনো পরিবর্তিত হয় না। সুতরাং, তাদের প্রতিও ক্ষমা ও দয়ার প্রদর্শনের এক সূক্ষ্ম ইঙ্গিত এই সূরায় প্রদান করা হয়েছে।


পরিশেষে বলা যায়, আল্লাহ যখন আপনাকে আপনার শত্রুর উপর বিজয় দান করবেন। এবং আপনার শত্রুদের অপমানের জবাবে আপনাকে সম্মানিত করবেন। তখন সকল প্রকার গর্ব প্রকাশ থেকে বিরত থেকে একমাত্র আল্লাহর শোকর ও প্রশংসা করুন। পাশাপাশি নিজের ত্রুটি ও অপূর্ণতার জন্য তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন। সকল বড়ত্ব ও গৌরবের একমাত্র অধিকারী তিনিই।


Scorching Sun

Sunday, 19 September 2021

সূরা আল-মুতাফফিফীন বাংলা অনুবাদ:

 সূরা মুতাফফিফীন এর শানে নুযুল। 

সূরা আল-মুতাফফিফীন কোরআন মাজিদের ৮৩ নম্বর সূরা। এই সূরার মোট আয়াত সংখ্যা ৩৬ টি। সূরা আল-মুতাফফিফীন এর বাংলা অর্থ- প্রতারণা।


সূরা আল-মুতাফফিফীন বাংলা অনুবাদ:


১) যারা মাপে কম করে, তাদের জন্যে দুর্ভোগ,

২) যারা লোকের কাছ থেকে যখন মেপে নেয়, তখন পূর্ণ মাত্রায় নেয়

৩) এবং যখন লোকদেরকে মেপে দেয় কিংবা ওজন করে দেয়, তখন কম করে দেয়।

৪) তারা কি চিন্তা করে না যে, তারা পুনরুত্থিত হবে।

৫) সেই মহাদিবসে,

৬) যেদিন মানুষ দাঁড়াবে বিশ্ব পালনকর্তার সামনে।

৭) এটা কিছুতেই উচিত নয়, নিশ্চয় পাপাচারীদের আমলনামা সিজ্জীনে আছে।

৮) আপনি জানেন, সিজ্জীন কি?

৯) এটা লিপিবদ্ধ খাতা।

১০) সেদিন দুর্ভোগ মিথ্যারোপকারীদের,

১১) যারা প্রতিফল দিবসকে মিথ্যারোপ করে।

১২) প্রত্যেক সীমালংঘনকারী পাপিষ্ঠই কেবল একে মিথ্যারোপ করে।

১৩) তার কাছে আমার আয়াতসমূহ পাঠ করা হলে সে বলে, পুরাকালের উপকথা।

১৪) কখনও না, বরং তারা যা করে, তাই তাদের হৃদয় মরিচা ধরিয়ে দিয়েছে।

১৫) কখনও না, তারা সেদিন তাদের পালনকর্তার থেকে পর্দার অন্তরালে থাকবে।

১৬) অতঃপর তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে।

১৭) এরপর বলা হবে, একেই তো তোমরা মিথ্যারোপ করতে।

১৮) কখনও না, নিশ্চয় সৎলোকদের আমলনামা আছে ইল্লিয়্যীনে।

১৯) আপনি জানেন ইল্লিয়্যীন কি?

২০) এটা লিপিবদ্ধ খাতা।

২১) আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত ফেরেশতাগণ একে প্রত্যক্ষ করে।

২২) নিশ্চয় সৎলোকগণ থাকবে পরম আরামে,

২৩) সিংহাসনে বসে অবলোকন করবে।

২৪) আপনি তাদের মুখমন্ডলে স্বাচ্ছন্দ্যের সজীবতা দেখতে পাবেন।

২৫) তাদেরকে মোহর করা বিশুদ্ধ পানীয় পান করানো হবে।

২৬) তার মোহর হবে কস্তুরী। এ বিষয়ে প্রতিযোগীদের প্রতিযোগিতা করা উচিত।

২৭) তার মিশ্রণ হবে তসনীমের পানি।

২৮) এটা একটা ঝরণা, যার পানি পান করবে নৈকট্যশীলগণ।

২৯) যারা অপরাধী, তারা বিশ্বাসীদেরকে উপহাস করত।

৩০) এবং তারা যখন তাদের কাছ দিয়ে গমন করত তখন পরস্পরে চোখ টিপে ইশারা করত।

৩১) তারা যখন তাদের পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরত, তখনও হাসাহাসি করে ফিরত।

৩২) আর যখন তারা বিশ্বাসীদেরকে দেখত, তখন বলত, নিশ্চয় এরা বিভ্রান্ত।

৩৩) অথচ তারা বিশ্বাসীদের তত্ত্বাবধায়করূপে প্রেরিত হয়নি।

৩৪) আজ যারা বিশ্বাসী, তারা কাফেরদেরকে উপহাস করছে।

৩৫) সিংহাসনে বসে, তাদেরকে অবলোকন করছে,

৩৬) কাফেররা যা করত, তার প্রতিফল পেয়েছে তো।

Saturday, 18 September 2021

ইবাদত যে কারণে নষ হয়

 মুমিন মুসলমান আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগিতে নিয়োজিত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু কখনও কখনও অনেককেই ইবাদত-বন্দেগিতে অবহেলা করতে দেখা যায়। এটা যারা করে তারা মূলতঃ দুর্বল ঈমানের পরিচয় বহন করে। তাদের অন্তর ঈমানের তেজোদ্বীপ্ত আলোয় পাকাপোক্ত হয়নি। আর ইবাদত-বন্দেগিতে তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।

যেসব কারণে মানুষের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়। সে কারণ উল্লেখ করেছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা। কুরআনে এসেছে-
'মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধা-দ্বন্দ্বে জড়িত হয়ে আল্লাহর ইবাদত করে। যদি সে কল্যাণ প্রাপ্ত হয়, তবে ইবাদতের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে আর যদি কোনো পরীক্ষার সম্মুখীন হয় তবে আগের অবস্থায় ফিরে যায়। সে দুনিয়া ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত। এটাই হলো তাদের সুস্পষ্ট ক্ষতি।' (সুরা বাকারা : আয়াত ১১)

একশ্রেণির লোক আছে, যারা ইসলাম গ্রহণের পর বা ইবাদত-বন্দেগি করার পর তাদের সন্তান-সন্ততি ও ধন-সম্পদে উন্নতি হয়, তাতে তারা আনন্দিত হয় এবং এটাকেই শ্রেষ্ঠ ধর্ম মনে করে। আবার যখন তারা কোনো বিপদ-আপদ ক্ষতি কিংবা পরীক্ষার সম্মুখীন হয় তখন তারা বলে, 'না', এটাতো প্রকৃত ধর্ম নয়। এ শ্রেণির লোকেরাই ইবাদত-বন্দেগিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

কারণ তারা ঈমান গ্রহণের পর বা ইসলামি নিয়মনীতি মেনে চলার যখন দুনিয়ার জীবনের সুখ-শান্তির খুঁজে পায় তখন তারা ঈমানের ওপর অটল হয়ে যায়। আর যদি পরীক্ষাস্বরূপ কোনো বিপদ-আপদ তাদের ওপর চলে আসে তবে তারা পেরেশানিতে পতিত হয়। আর এ পেরেশানি ও গড়িমসিই তাদের ইবাদতকে নষ্ট করে দেয়।

ইবাদত-বন্দেগিতে যারা অবহেলা বা গড়িমসি করে তাদের কঠোর আজাবের কথাও কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন-
'অতএব দুর্ভোগ বা শাস্তি সেসব নামাজির জন্য যারা তাদের নামাজ সম্বন্ধে বেখবর; যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে থাকে।' (সুরা মাউন : আয়াত ৪-৬)

এ আয়াতে নামাজে গড়িমসি বা অবহেলাকারীদের জন্য দুর্ভোগ বা শাস্তির ঘোষণা দেয়া হয়েছে। অবহেলা বা গড়িমসি করে নামাজ পড়লে যদি শাস্তি বা দুর্ভোগ পোহাতে হয় তবে, সে ইবাদত বা নামাজ তো নষ্টেরই শামিল।

আল্লাহ তাআলা এ রকম দোদুল্যমান বান্দাদের সতর্ক করেছেন। মুমিন বান্দাকে আল্লাহ নেয়ামত দিয়ে এবং নেয়ামত নিয়ে পরীক্ষা করবেন। জীবনে উন্নতি দিয়ে যেমন পরীক্ষা করবেন আবার জান ও মালের ক্ষতি দিয়েও পরীক্ষা করবেন।

যারা জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, বিপদ-আপদ, ধন-সম্পদের উন্নতি-অবনিত, সন্তান-সন্ততির বাড়তি-কমতি এমনকি হায়াত-মউতের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হবে তারাই ঈমানের প্রকৃত স্বাদ গ্রহণ করবে। তাদের ইবাদত-বন্দেগি নষ্ট হবে না। তারাই প্রকৃত ঈমানদার।

দুনিয়ার জীবনের শুরুতে পড়া-লেখায় সফলতা-ব্যর্থতা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি-বাকরিতে সচ্ছল-অসচ্ছল অবস্থা ইত্যাদি মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আসে। এ জন্য নিজেকে সব সময় ঈমানের উপর অটল ও অবিচল রাখা জরুরি।

আর যারা দুনিয়ার সাময়িক জীবনে ক্ষতি ও বিপদে হতাশ হয়ে যায়। তাদের এ ক্ষতি শুধু দুনিয়ার নয় বরং তারা পরকালের জীবনকেও ধ্বংস করে দেয়। আল্লাহর বিধিবিধান পালনে গড়িমসি ও অবহেলা করে তাদের দুনিয়া এবং পরকালের যাবতীয় কাজ নষ্ট হয়ে যায়।

আল্লাহ সেই মহান সত্ত্বা তিনি যাকে ইচ্ছা যেমন সচ্ছল দিতে পারেন আবার যাকে ইচ্ছা তাকে দুর্ভোগ ও কষ্ট দিতে পারেন। এসবই মহান আল্লাহর নিয়ন্ত্রণাধীন। কুরআনুল কারিমের মহান আল্লাহ তাও তুলে ধরেছেন-
'বলুন ইয়া আল্লাহ! তুমিই সার্বভৌম শক্তির অধিকারী। তুমি যাকে ইচ্ছা রাজ্য দান কর এবং যার কাছ থেকে ইচ্ছা রাজ্য ছিনিয়ে নাও এবং যাকে ইচ্ছা সম্মান দান কর আর যাকে ইচ্ছা অপমানে পতিত কর। তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে ক্ষমতাশীল।' (সুরা ইমরান : আয়াত ২৬)

সুতরাং নামাজসহ সব ইবাদত হৃদয় ও প্রাণ উজাড় করে দিয়ে করতে হবে। আল্লাহর বিধিবিধান যথাযথভাবে আদায় করতে হবে। কোনোভাবেই দ্বিধা-দ্বন্দ্ব মন নিয়ে ইবাদত-বন্দেগি করা যাবে না। ইবাদতে অবহেলা বা গড়িমসিও করা যাবে না। কেননা দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নিয়ে ইবাদতে অবহেলা ও গড়িমসি করলে মানুষের ইবাদত নষ্ট হয়ে যায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে এমন বান্দা হওয়ার তাওফিক দান করুন, যাতে সে সুখে-দুঃখে, উন্নতি-অবনতি সর্বাবস্থায় সমান উৎসাহ উদ্দীপনায় ইবাদত করার হিম্মত পায়। যেন কোনোভাবেই ইবাদত বন্দেগি নষ্ট হয়ে না যায়। বরং কুরআনুল কারিমের সুরা হজের ১১ নং আয়াতকে অনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করে দ্বিধা-দ্বন্দ্বমুক্ত ইবাদত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Friday, 17 September 2021

সূরা লাহাব সূরা লাহাবের বাংলা অর্থ

 সূরা আল লাহাব (আরবি: سورة اﻟﻠﻬﺐ‎‎) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ১১১ তম সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৫ এবং সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। আবু লাহাবের আসল নাম ছিল আবদুল ওয্‌যা। সে ছিল আবদুল মোত্তালিবের অন্যতম সন্তান।


بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

In the Name of Allah, the Most Beneficent, the Most Merciful.


تَبَّتۡ یَدَاۤ  اَبِیۡ  لَہَبٍ وَّ  تَبَّ ؕ﴿۱﴾

তাব্বাত ইয়াদাআবী লাহাবিওঁ ওয়া তাবব।

ধ্বংস হোক আবু লাহাবের হস্তদ্বয় এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও।

Perish the two hands of Abu Lahab (an uncle of the Prophet), and perish he!


مَاۤ  اَغۡنٰی عَنۡہُ  مَالُہٗ  وَ  مَا کَسَبَ ؕ﴿۲﴾

মাআগনা-‘আনহু মা-লুহূওয়ামা-কাছাব।

ওর ধন সম্পদ ও ওর উপার্জন ওর কোন উপকারে আসেনি।

His wealth and his children (etc.) will not benefit him!


سَیَصۡلٰی نَارًا ذَاتَ  لَہَبٍ ۚ﴿ۖ۳﴾

ছাইয়াসলা-না-রান যা-তা লাহাব।

অচিরেই সে শিখা বিশিষ্ট জাহান্নামের আগুনে প্রবেশ করবে,

He will be burnt in a Fire of blazing flames!


وَّ  امۡرَاَتُہٗ ؕ حَمَّالَۃَ  الۡحَطَبِ ۚ﴿۴﴾

ওয়ামরাআতুহূ; হাম্মা-লাতাল হাতাব।

এবং তার স্ত্রীও-যে ইন্ধন বহন করে।

And his wife too, who carries wood (thorns of Sadan which she used to put on the way of the Prophet (Peace be upon him), or use to slander him).


فِیۡ  جِیۡدِہَا حَبۡلٌ مِّنۡ مَّسَدٍ ٪﴿۵﴾

ফী জীদিহা-হাবলুম মিম মাছাদ।

তার গলদেশে খেজুর বাকলের রজ্জু রয়েছে।

In her neck is a twisted rope of Masad (palm fibre).


সূরা লাহাবের শিক্ষা।

একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, সূরা লাহাব আমাদের প্রিয় নবী (সঃ)-এর নবুওয়াতের একটি উচ্চতর প্রমাণ। আবু লাহাব এবং তার স্ত্রী দুস্কৃতির এবং পরিণতির যে সংবাদ এ সূরায় দেয়া হয়েছে। বাস্তবেও তা-ই ঘটেছে। এ দম্পতির ঈমান আনয়নের সৌভাগ্য হয়নি। তারা প্রকাশ্য বা গোপনীয় কোনভাবেই মুসলমান হয়নি। কাজেই, এ সূরাটি রাসূলুল্লাহর (সঃ) নবুওয়াতের উজ্জ্বল ও সুস্পষ্ট প্রমাণ।

Thursday, 16 September 2021

সর্বঅবস্থায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে,আলহামদুলিল্লাহ

 আপনার বিয়ে হতে পারে পৃথিবীর নিকৃষ্টতম ব্যক্তিটির সাথে, 

যেমন আছিয়ার বিয়ে হয়েছিল ফির'আউনের সাথে। 

কিন্তু এর ফলে আল্লাহর প্রতি তাঁর বিশ্বস্ততা কিংবা ভালবাসা কোনটাই কমেনি।  


আপনার বিয়ে হতে পারে পৃথিবীর সবচেয়ে উত্তম ব্যক্তিদের মধ্য থেকে কারো সাথে, যেমন হয়েছিল লুত (আঃ) কিংবা নূহ (আঃ)-এর স্ত্রীদের। কিন্তু সেটা তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারেনি। 


আপনার কারো সাথে বিয়ে নাও হতে পারে, যেমন হয়েছিল মারিয়াম (আঃ)-এর ক্ষেত্রে। 

কিন্তু আল্লাহ্ রব্বুল আলামীন তাঁকে পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ নারীদের মধ্যে শামিল করে অতুলনীয় সম্মানে সম্মানিত করেছেন। 


মনে রাখবেন, আপনার ভালবাসা এবং বিশ্বাসের অধিকার সর্বপ্রথম আল্লাহ্ সুবহানাহু তা'য়ালার। 

আপনি যদি তাঁর রহমত আদায় করতে পারেন, তবে আপনি যে অবস্থানেই থাকুন না কেন, আপনি সফল হবেনই।


 ইনশাআল্লাহ!

মা-বাবা ও সন্তানের পারস্পরিক দায়দায়িত্ব:

 মা-বাবা ও সন্তানের পারস্পরিক দায়দায়িত্ব:


পৃথিবীর সবচেয়ে গভীরতম ও স্থায়ী সম্পর্ক যেসব ক্ষেত্রে গড়ে ওঠে, তার মধ্যে মা-বাবা ও সন্তানের মধ্যকার সম্পর্ক অন্যতম। এ সম্পর্ক জন্মগত, যা অস্তিত্বের মাঝে বিরাজমান। মানুষ যত দিন তার অস্তিত্ব নিয়ে টিকে থাকবে, তত দিন সে তার মধ্যে স্বীয় মা-বাবার নমুনা বহন করবে। সন্তান পৃথিবীর আলো-বাতাস দেখার বহু আগে থেকেই মা-বাবার দেহে অবস্থান করে। 


সন্তান জন্মের সাথে সাথে মা-বাবার প্রতি প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু হক কার্যকর হতে শুরু করে এবং তখন থেকেই সেই হক অনুযায়ী আমল করা মা-বাবার কর্তব্য হয়ে যায়। মা-বাবার প্রতি সন্তানের হক হচ্ছে প্রথমত তিনটি। ১. জন্মের পরপরই তার একটি সুন্দর ধর্মীয় নাম রাখতে হবে। ২. জ্ঞান বুদ্ধি বাড়লে তাকে কুরআন তথা ইসলাম সম্পর্কে শিক্ষা দিতে হবে। ৩. আর সে যখন পূর্ণ বয়স্ক হবে, তখন তার বিয়ের ব্যবস্থা করতে হবে। বস্তুত সন্তানের ভালো একটি নাম না রাখা, কুরআন ও ইসলামের শিক্ষা না দেয়া এবং প্রাপ্তবয়স্ক হলে তার বিয়ের ব্যবস্থা না করা মা-বাবার অপরাধের মধ্যে গণ্য। এসব কাজ না করলে মা-বাবার পারিবারিক দায়িত্ব পালিত হতে পারে না। ভবিষ্যৎ সমাজও ইসলামী আদর্শ মোতাবেক গড়ে উঠতে পারে না।


অনুরূপভাবে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সপ্তম দিনে আকিকা করাও মা-বাবার দায়িত্ব। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, নবী করিম সা: সপ্তম দিনে সন্তানের নাম রাখতে, মস্তক মুণ্ডন করতে এবং আকিকা করতে আদেশ দিয়েছেন (তিরমিজি শরিফ)। 

আজকাল অনেক মুসলমানের সন্তানের নাম শুনে বোঝার উপায় নেই যে, সে মুসলিম কি না? একজন মুসলমানের নাম শুনেই বোঝা যাবে যে সে একজন মুসলমান। চাল-চলনে, ওঠা-বসায়, কথাবার্তায় তথা সব ক্ষেত্রেই একজন মুসলমান অনন্য বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হবে। জীবনের সব ক্ষেত্রেই সে হবে সুন্নাতে নবীর মূর্ত প্রতীক। মা-বাবা যদি সন্তানের হক সঠিকভাবে আদায় করে তার সুন্দর একটি নাম নির্বাচন করে ইসলাম ও দ্বীন শিক্ষা দেয়, সঠিক সময়ে বিয়ের ব্যবস্থা করে তাহলে ওই সন্তান কখনো মা-বাবার কষ্টের কারণ হতে পারে না। বরং সে হবে মা-বাবার চোখের শীতলতা। 

আল কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, ‘আর যারা বলে হে আমাদের রব, আপনি আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তানাদি দান করুন, যারা আমাদের চক্ষু শীতল করবে। আর আপনি আমাদের মুত্তাকিনদের ইমাম বানিয়ে দিন’ (সূরা ফুরকান, আয়াত ৭৪)। 

সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর তার ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত বলাও মা-বাবার দায়িত্ব। হজরত আবু রাফে রা: বলেন, হজরত ফাতেমা রা: যখন হুসাইন রা:-কে প্রসব করলেন তখন নবী করিম সা:-কে তাঁর কানে নামাজের আজান শুনাতে আমি দেখেছি (আবু দাউদ)। এখানে একটি বিষয়ের প্রতি উলামায়ে কেরাম ইঙ্গিত দিয়েছেন। তা হলো ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় আজান-ইকামত দেয়া হলো, এখন নামাজ পড়ার পালা। অর্থাৎ মানুষের জন্ম হওয়াটাই যেন নামাজের উদ্দেশ্যে। তাই তো হাদিস শরিফে সাত বছর বয়স থেকেই নামাজের আদেশ করা হয়েছে। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, তোমরা তোমাদের সন্তান-সন্ততিদের নামাজ পড়তে আদেশ করো। যখন তারা সাত বছর বয়সে পৌঁছবে এবং নামাজের জন্য তাদের প্রহার করো (শাসন করো)। যখন তারা ১০ বছরে উপনীত হবে, আর তখন তাদের জন্য পৃথক শয্যার ব্যবস্থা করাও তোমাদের কর্তব্য (আবু দাউদ)।


মা-বাবা হিসেবে সন্তানের প্রতি সবচেয়ে বড় যে দায়িত্ব, তা হলো তাওহিদ বা একত্ববাদের আদর্শে সন্তানের জীবনের ভিত্তি গড়ে তোলা। এ প্রসঙ্গে কুরআন মাজিদে উল্লিখিত হজরত লোকমান আ:-এর নছিহত তার পুত্রের প্রতি বিশেষভাবে স্মরণীয়। ইরশাদ হচ্ছে, হে প্রিয় পুত্র! আল্লাহর সাথে শিরক করো না, কেননা শিরক হচ্ছে অত্যন্ত বড় জুলুম (সূরা লোকমান, আয়াত ১৩)। 


মা-বাবার ওপর সন্তানের জন্য যেমন কিছু করণীয় দায়িত্ব রয়েছে অনুরূপভাবে সন্তানের ওপরও মাতা-পিতার জন্য অবশ্য করণীয় কিছু দায়িত্ব আছে। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ ইরশাদ করেন, তোমার প্রতিপালক আদেশ করেন তিনি ব্যতীত অন্য কারো ইবাদত না করতে এবং মা-বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়জন তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হলে উফ (বিরক্তি ক্রোধ অথবা ঘৃণাসূচক) বলো না এবং তাদের ধমক দিও না। তাদের সাথে সম্মানসূচক কথা বলবে। 

মমতাবেশে তাদের প্রতি নম্রতার ডানা অবনত করবে এবং বলবে, হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি রহমত নাজিল করো যেভাবে তারা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছে (সূরা বনি ইসরাইল, আয়াত ২৩-২৪)। উল্লিখিত আয়াতে প্রথমে আল্লাহকে এক ও লা-শারিক বলে স্বীকার করার নির্দেশ এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো সামান্যতম বন্দেগি করতেও স্পষ্ট ভাষায় নিষেধ করা হয়েছে। তার সাথে সাথে নির্দেশ দেয়া হয়েছে মা-বাবার সাথে ভালো ব্যবহার করার। এ দু’টি নির্দেশ একসঙ্গে দেয়ার অর্থ এই যে, প্রতিপালনের ক্ষেত্রে আল্লাহ ও মা-বাবার বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ অনুগ্রহ রয়েছে। প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা ও লালন-পালনকারী তো মহান আল্লাহ। সুতরাং বান্দাহর ওপর সর্ব প্রথম হক তারই ধার্য হবে। কিন্তু আল্লাহ যেহেতু এ কাজ সরাসরি নিজে করেন না, বরং মা-বাবার মাধ্যমে করিয়ে নেন, তাই বান্দাহর ওপর আল্লাহর হকের পরপরই মা-বাবার হক ধার্য হবে। মা-বাবার মাধ্যমে শৈশবে সন্তানের প্রতি যে দরদ-মায়া ও ভালোবাসাপূর্ণ আচরণ প্রকাশ পায়, সেই আচরণের কথা স্মরণ করে দিয়ে মহান আল্লাহ মা-বাবার প্রতি রহমত কামনা করতে নির্দেশ দিচ্ছেন। মা-বাবার জন্য মহান আল্লাহ সরাসরি দোয়া করার নির্দেশ দিয়ে তাদের সম্মান যে কত উঁচু সে দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।

সেই সাথে সন্তানের উচিত তার শৈশবের অসহায়ত্বের কথা স্মরণ করা। শৈশবে সে যখন ছিল অসহায়, নিজে নিজে কোনো কাজই সে করতে পারত না, তখন যেমন মা-বাবা তাকে হাত ধরে ধরে সব কাজ শিখিয়েছেন, তার সুখের জন্য তার আরামের জন্য নিজের সুখ-শান্তিকে বিসর্জন দিয়েছেন, সামান্য অসুস্থ হয়ে পড়লে মা-বাবা অস্থির হয়ে উঠতেন। এ সবকিছু সন্তানের প্রতি মা-বাবার দরদ ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। পৃথিবীতে সবচেয়ে ভালোবাসাপূর্ণ মধুময় সম্পর্ক হলো মা-বাবা ও সন্তানের মধ্যকার সম্পর্ক যে মা-বাবার মধ্যে সন্তানের জন্য এত দয়া, এত মায়া সেই মা-বাবাকে যিনি সৃষ্টি করেছেন, সেই আল্লাহ কত দয়ালু তার বান্দার প্রতি সে দিকে বান্দাহর খেয়াল করা দরকার। 


তাই তো হজরত লোকমান আ: তার সন্তানের প্রতি প্রথম নির্দেশ দিচ্ছেন, হে বৎস! শিরক করো না, অবশ্যই শিরক মস্তবড় জুলুম। শিরক যেমন কবিরা গোনাহ, অনুরূপভাবে মা-বাবার নাফরমানি করাও কবিরা গোনাহ। তবে মা-বাবার আনুগত্য করতে গিয়ে আল্লাহর নাফরমানি করা কোনোক্রমেই বৈধ হবে না। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে রাসূল সা: ইরশাদ করেন, খালেকের নাফরমানি করে মাখলুকের ফরমাবরদারি করা যাবে না (মুসনাদে আহমদ)।

রাসূলুল্লাহ সা: কবিরা গোনাহ কী কী তা বলতে গিয়ে শিরক করা ও মা-বাবার নাফরমানি করাকে একসাথে উল্লেখ করেছেন। হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে আল্লাহর সাথে শিরক করা এবং মা-বাবার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা সবচেয়ে বড় কবিরা গোনাহ (বুখারি)। 

হজরত জাহেমা রা: বলেন, আমি রাসূল সা:-এর কাছে জিহাদে শরিক হওয়া সম্পর্কে পরামর্শ করার জন্য উপস্থিত হলাম। তখন রাসূল সা: জিজ্ঞেস করলেন তোমার মা কি জীবিত আছেন? আমি বললাম, হ্যাঁ। তখন রাসূল সা: বললেন, তুমি ফিরে যাও এবং তোমার মায়ের সম্মান ও খেদমত করতে থাক। কেননা তার পায়ের নিচেই তোমার জান্নাত (নাসাঈ)। 


আজ সমাজে মা-বাবা ও সন্তানের পারস্পরিক অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে আমরা একেবারেই উদাসীন। দুনিয়ার মোহে পড়ে আমরা সর্বদা ইসলামের বিধানগুলো জলাঞ্জলি দিচ্ছি। আধুনিকতার বিষবাষ্পে আমরা সন্তানদের ইসলামী ভাবধারা থেকে দূরে ঠেলে দিয়ে দুনিয়ামুখী করে গড়ে তুলছি। এ কারণেই তো আমাদের সন্তানেরা মা-বাবাকে একপর্যায়ে বোঝা মনে করে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। তাই বৃদ্ধ মা-বাবার শেষ আশ্রয় এখন হচ্ছে বৃদ্ধাশ্রমে। 

হজরত আয়েশা সিদ্দীকা রা: বর্ণনা করেন, একদা নবী করিম সা: ওসামার (শিশু অবস্থায়) মুখ ধুয়ে দিতে বলেন। আমি মুখ ধুতে লাগলাম, কিন্তু এটা আমার ভালো লাগছিল না। রাসূলুল্লাহ সা: তা বুঝতে পারলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি আমার হাত থেকে ওসামাকে নিয়ে নিজেই তার মুখ ধুয়ে দেন। এরপর তাকে চুম্বন করেন এবং বললেন, তার জন্য নির্দিষ্ট কোনো কাজের মেয়ে না থাকাই তো আমরা এ সুযোগটি পেয়েছি। সুতরাং এটি নিঃসন্দেহে আমাদের প্রতি ওসামার এহসান। 

ইবনে মাজা শরিফে বর্ণিত আছে, এক ব্যক্তি রাসূলে আকরাম সা:-এর খেদমতে হাজির হয়ে প্রশ্ন করল, সন্তানের ওপর মা-বাবার কী কী অধিকার রয়েছে। রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, তোমার মা-বাবা তোমার জান্নাত অথবা জাহান্নাম। 


হাদিসে আরো বর্ণিত হয়েছে, একদা এক লোক প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল সা:, আমার সেবা ও সদ্ব্যবহারের সর্বাপেক্ষা বেশি হকদার কে? রাসূলুল্লাহ সা: বললেন, তোমার মা। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করল তারপর কে? বললেন তোমার মা, লোকটি আবারো জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন তোমার মা। এরপর তোমার বাবা তোমার সেবা ও উত্তম ব্যবহারের হকদার (বোখারি ও মুসলিম)। 


হাদিসে আরো বর্ণিত আছে আল্লাহর সন্তুষ্টি মা-বাবার সন্তুষ্টির মধ্যে নিহিত রয়েছে। অনুরূপ মা-বাবাকে অসন্তুষ্ট করলে আল্লাহ তায়ালা অসন্তুষ্ট হন (ইবনে হেব্বান)। 

এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সা:-এর খেদমতে হাজির হয়ে আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার মা-বাবার ইন্তেকালের পরে তাদের জন্য আমার কী হক পালন করতে হবে? তিনি বললেন, তাদের জন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে মাগফিরাতের দোয়া করো। তাদের সাথে তোমার কৃত ওয়াদা এবং তাদের কৃত অসিয়ত পালন করো। তাদের বন্ধু-বান্ধবদের সম্মান করো। তাই আমাদের সন্তানদের সঠিক ইসলামী শিক্ষা দিয়ে আমরা যেন তাদের কাছ থেকে ইসলামী নিয়মে সম্মান ও মর্যাদা পাই, সে জন্য আমাদের সচেতন হতে হবে।

অটুট থাকুক ভাই-বোনের বন্ধন:

 অটুট থাকুক ভাই-বোনের বন্ধন:


পৃথিবীতে মা-বাবার পর আপন হচ্ছে ভাই-বোন। নিঃস্বার্থ এক ভালোবাসার উপমা ভাই-বোনের সম্পর্ক। মা-বাবার পরে যারা পরিবারের জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেন তারা হলেন বড় ভাই-বোন। শত কষ্টের মাঝে থেকেও যারা ছোট ভাই-বোনদের ভালোবাসার চাদরে আগলে রাখেন। নিজেরা ভোগবিলাসে না থেকে ছোট ভাই-বোনের সুখের কথা ভাবেন। তবে বর্তমানে ভাই-বোনের মধুর এ সম্পর্ক যেন ক্রমেই ফিকে হয়ে আসছে। ছোট ভাই লেখাপড়া শেষ করে প্রতিষ্ঠিত হয়। বিয়ের পর স্ত্রী, সন্তান নিয়ে সুখে-শান্তিতে বসবাস করে। আস্তে আস্তে বড় ভাই-বোনকে ভুলে যায়। আবার অনেক সময় বড় ভাই বিয়ের পর পৃথক হয়ে যায় তখন আর ছোট ভাই-বোনের খবর নেয় না। একসময় দেখা যায় ভাইয়ে ভাইয়ে জমি জমা নিয়ে কলহের সৃষ্টি হয়। মামলা-মোকাদ্দমাসহ বিভিন্ন হয়রানির শিকার হতে হয়। রক্তের বাঁধন ছিন্ন করে কেউ কারও সঙ্গে কথা বলে না!


পরিবারে ভাইয়ের মতো বোনের অবদানও কোনো অংশে কম নয়। বোনেরা ভাইদের জন্য সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেন। নিজের কথা না ভেবে ভাইদের নিয়ে বেশি ভাবেন। মা-বাবার অবর্তমানে তাদের অভাব বুঝতে দেন না। কখনো ভাইকে ঠকতে দেন না। অথচ ত্যাগী সেই বোনের বিয়ের পর ভাইয়েরা দূরে সরিয়ে দেয়। অবহেলা করে। অনেক সময় দেখা যায় ভাইয়েরা মা-বাবার ধন-সম্পদ সঠিকভাবে বন্টন করে না। নিজেরা বেশি ভোগ করে। বোনকে পৈতৃক ওয়ারিশ থেকে বঞ্চিত করে। যার ফলে ধীরে ধীরে ভাই-বোনের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সম্পদ আত্মসাৎ করার ফলে একদিকে যেমন পাপের অংশীদারি হতে হচ্ছে, সেই সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্কও নষ্ট হচ্ছে। হক নষ্ট করা যেমন কবিরা গুনাহ, তেমনি আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করাও কবিরা গোনাহ। ইরশাদ হয়েছে, ‘যারা আল্লাহর সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকারে আবদ্ধ হওয়ার পর তা ভঙ্গ করে, যে সম্পর্ক অক্ষুন্ন রাখতে আল্লাহ আদেশ করেছেন, তা ছিন্ন করে এবং পৃথিবীতে অশান্তি সৃষ্টি করে বেড়ায়, তাদের জন্য আছে অভিসম্পাত এবং তাদের জন্য আছে মন্দ আবাস।’ (সূরা রাদ : ২৫)


এজন্য আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে ভাই-বোনের হক পুরোপুরি বুঝিয়ে দেয়া। প্রাপ্য হক থেকে কাউকে বঞ্চিত না করা এবং সম্পর্ক ছিন্ন না করা। তাদের সঙ্গে সর্বদা উত্তম আচরণ করা। কখনও মনে আঘাত দিয়ে কথা না বলা। আমরা সবাই যদি ভাই-বোনের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে পারি তাহলে হয়তো বদলে যাবে সমাজ, দেশ ও জাতির সমাজচিত্র। আমরাও দুনিয়া ও আখিরাত উভয় জাহানে থাকব অনাবিল আনন্দে। তাই যে ভাই-বোন আমাদের আদর-স্নেহ, মায়া-মমতা, ভালোবাসা দিয়ে লালন পালন করেছেন, অটুট থাকুক সেই ভাই-বোনের মধুর বন্ধন।

Wednesday, 15 September 2021

অহংকার পতনের মূল

 ‘অহংকার পতনের মূল’—এ কথা প্রচলিত। নৈতিক মূল্যবোধের জায়গা থেকে এটি যেমন সত্য, ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও এ কথা প্রমাণিত যে অহংকার ও দাম্ভিকতা পতন ডেকে আনে।


আত্ম-অহমিকা, দাম্ভিকতা ও অহংকার গর্হিত অপরাধ। অহংকারী মানুষকে আল্লাহ খুব অপছন্দ করেন।

ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) অহংকারীদের ভালোবাসেন না।’ (সুরা : নাহল, আয়াত : ২৩)


মহান আল্লাহর সঙ্গে কৃত সর্বপ্রথম গুনাহ হলো অহংকার। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, তোমরা আদমকে সিজদা করো, তখন ইবলিস ছাড়া সবাই সিজদা করল। শুধু সে অহংকারবশত সিজদা করতে অস্বীকার করল। আর সে কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।’   (সুরা : বাকারা, আয়াত : ৩৪)


গর্বকারীরা পরকালে জাহান্নামি হবে। এদের নিয়ে জাহান্নাম ও জান্নাতের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমি কি তোমাদের জাহান্নামিদের সম্পর্কে সংবাদ দেব না? সাহাবাগণ বলেন, অবশ্যই দেবেন হে আল্লাহর রাসুল। তখন তিনি বলেন, জাহান্নামি হচ্ছে প্রত্যেক কঠিন প্রকৃতির ধনী কৃপণ অহংকারী।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৯১৮)


আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘জাহান্নাম ও জান্নাত পরস্পর তর্ক করছিল। জাহান্নাম বলল, আমাকে দাম্ভিক ও অহংকারী মানুষ দেওয়া হয়েছে, যা তোমাকে দেওয়া হয়নি। জান্নাত বলল, আমার কী দোষ যে দুর্বল, অক্ষম ও গুরুত্বহীন মানুষগুলোই আমার ভেতর প্রবেশ করছে।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৮৪৬)


অহংকারী মানুষ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যার অন্তরে অণু পরিমাণ অহংকার থাকবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। একজন সাহাবি বলেন, মানুষ তো চায় যে তার কাপড় সুন্দর হোক এবং তার জুতা সুন্দর হোক (এটা কি অহংকার বলে গণ্য হবে?) রাসুল (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ সুন্দর। অতএব তিনি সুন্দর পছন্দ করেন। তবে অহংকার হচ্ছে সত্য প্রত্যাখ্যান ও মানব অবমূল্যায়ন।’ (মুসলিম, হাদিস : ৯১)


একবার বনি ইসরাঈলের এক ব্যক্তি গর্ব করলে আল্লাহ তাআলা তাকে কঠিন শাস্তি দেন। রাসুল (সা.)-এর যুগেও এমন একটি ঘটনা ঘটে যায়। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘একদা এক ব্যক্তি এক জোড়া জাঁকজমকপূর্ণ পোশাক পরে (রাস্তা দিয়ে) চলছিল। তা নিয়ে তার খুব গর্ব বোধ হচ্ছিল। তার জমকালো লম্বা চুলগুলো সে খুব যত্নসহকারে আঁচড়ে রেখেছিল। হঠাৎ আল্লাহ তাআলা তাকে ভূমিতে ধসিয়ে দেন এবং সে কিয়ামত পর্যন্ত এভাবেই নিচের দিকে নামতে থাকবে।’ (বুখারি, হাদিস : ৫৭৮৯)


কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা অহংকারী ও দাম্ভিকের সঙ্গে কথা বলবেন না, তার দিকে রহমতের দৃষ্টিতে তাকাবেন না, তাকে গুনাহ থেকে পবিত্র করবেন না। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘তিন ব্যক্তির সঙ্গে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা কথা বলবেন না, তাদের গুনাহ থেকেও পবিত্র করবেন না, তাদের দিকে রহমতের দৃষ্টিতেও তাকাবেন না এবং তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি। তারা হচ্ছে বৃদ্ধ ব্যভিচারী, মিথ্যুক রাষ্ট্রপতি ও দাম্ভিক ফকির।’

(মুসলিম, হাদিস : ১০৭)

গুনাহ মাফের অন্যতম আরেকটি মাধ্যম হলো নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে গুনাহ মাফের জন্য দুয়া করা। হাদিসে এসেছে, কোন ব্যক্তি গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অযু করে দু রাকআত সালাত পড়ে আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। ( ইবনে মাজাহ:১৩৯৫)

 আকাশ কত উঁচুতে? 

এই এত উঁচু আকাশ পরিমাণ গুনাহ হলেও আল্লাহ তা'য়ালা ক্ষমা করে দেবেন বলে ওয়াদা করেছেন, আল্লাহু আকবার। 

আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন, হে ঈমানদারগণ, তোমরা আল্লাহর কাছে তাওবা কর, খাঁটি তাওবা; আশা করা যায় তোমাদের রব তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন। (সূরা আত-তাহরিম:৮)

আল্লাহ তা‘আলা বলেন, হে আদম সন্তান! তুমি যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে ডাকবে ও আমার নিকট ক্ষমার আশা পোষণ করবে, তোমার অবস্থা যা-ই হোক না কেন, আমি কারো পরোয়া করি না, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেবো। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহ যদি আকাশ পর্যন্তও পৌঁছে, আর তুমি আমার কাছে ক্ষমা চাও, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দিব, আমি কারো পরোয়া করি না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবীসম গুনাহ নিয়েও আমার সাথে সাক্ষাৎ করো এবং আমার সাথে কাউকে শারীক না করে সাক্ষাৎ করো, আমি পৃথিবীসম ক্ষমা নিয়ে তোমার কাছে উপস্থিত হব। (মিশকাত:২৩৩৬)

প্রয়োজন শুধুই-

১. একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্যই তাওবা করতে হবে, লোক দেখানোর জন্য নয়।

২. কৃত অপরাধের জন্য অনুতপ্ত হতে হবে।

৩. কৃত অপরাধ থেকে ফিরে আসতে হবে। যদি মানুষের হক থাকে তাহলে তা ফেরত দিতে হবে।

৪. দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা যে, ভবিষ্যতে কখনো এরূপ কাজে জড়িত হবে না।

৫. যত দ্রুত সম্ভব তাওবা করতে হবে। এমন যেনো নাহয় তাওবা করার আগেই মৃত্যু চলে আসে!

(সূরা তাহরিম, আয়াত ৮, তাফসীরে ইবনে কাসীর) 

গুনাহ মাফের অন্যতম আরেকটি মাধ্যম হলো নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে কান্নাকাটি করে গুনাহ মাফের জন্য দুয়া করা।

হাদিসে এসেছে, কোন ব্যক্তি গুনাহ করার পর উত্তমরূপে অযু করে দু রাকআত সালাত পড়ে আল্লাহ্‌র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করলে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন। ( ইবনে মাজাহ:১৩৯৫)

আল্লাহ তাওফিক দিন। 


Tuesday, 14 September 2021

সূরা ইখলাসের ফজিলত

 সূরা ইখলাস’ পবিত্র কোরআন শরীফের ১১২ নম্বর সূরা। এর আয়াত সংখ্যা ৪টি এবং এর রূকুর সংখ্যা ১টি। আল ইখলাস সূরাটি মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে। ইখলাস অর্থ হলো- একনিষ্ঠতা, নিরেট খাঁটি বিশ্বাস, ভক্তিপূর্ণ উপাসনা। দুনিয়ার সব বিশ্বাস থেকে মুক্ত হয়ে শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার একত্ববাদের ওপর খাঁটি ও নিরেট বিশ্বাসী হওয়াকে ইখলাস বলে।


بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

In the Name of Allah, the Most Beneficent, the Most Merciful.


قُلۡ ہُوَ  اللّٰہُ  اَحَدٌ  ۚ﴿۱﴾

কুল হুওয়াল্লা-হু আহাদ।

বলঃ তিনিই আল্লাহ, একক/অদ্বিতীয়।

Say (O Muhammad (Peace be upon him)): He is Allah, (the) One.

اَللّٰہُ  الصَّمَدُ ۚ﴿۲﴾

আল্লা-হুসসামাদ।

আল্লাহ কারও মুখাপেক্ষী নন।

Allah-us-Samad (The Self-Sufficient Master, Whom all creatures need, He neither eats nor drinks).


لَمۡ  یَلِدۡ ۬ۙ  وَ  لَمۡ  یُوۡلَدۡ ۙ﴿۳﴾

লাম ইয়ালিদ ওয়ালাম ইঊলাদ।

তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনিও কারও সন্তান নন,

He begets not, nor was He begotten;


وَ  لَمۡ  یَکُنۡ  لَّہٗ   کُفُوًا  اَحَدٌ ٪﴿۴﴾

ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহূকুফুওয়ান আহাদ।

এবং তাঁর সমতুল্য কেহই নেই।

And there is none co-equal or comparable unto Him.


সুরা ইখলাসের ফজিলত:

সুরা ইখলাস-এর ভাব ও মর্মার্থ বুঝে পড়লে তাতে বান্দার অন্তরে আল্লাহর গুণাবলী গেঁথে যাবে। মনে প্রাণে ওই ব্যক্তি হয়ে উঠবে শিরকমুক্ত ঈমানের অধিকারী হবে। আর তার বিনিময়ে সে লাভ করবে দুনিয়া ও পরকালের অনেক উপকারিতা ও ফজিলত।


একবার এক সাহাবা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি সুরা ইখলাসকে ভালোবাসি। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তখন বলেন, এ ভালোবাসা তোমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। ’ (বুখারি, তিরমিজি)

Sunday, 12 September 2021

সূরা আল ফালাক (১১৩ তম সূরা)

 সূরা আল-ফালাক(নিশিভোর) পবিত্র কুরআনের ১১৩ তম সূরা। সূরাটির আয়াত সংখ্যা ৫। সূরাটি মদীনায় অবতীর্ণ হয়।এই সূরার মাধ্যমে শয়তানের অনিষ্ট থেকে মহান আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করা হয়।


بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

In the Name of Allah, the Most Beneficent, the Most Merciful.


قُلۡ اَعُوۡذُ  بِرَبِّ الۡفَلَقِ ۙ﴿۱﴾

কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিল ফালাক

বলঃ আমি আশ্রয় চাচ্ছি ঊষার স্রষ্টার।

Say: I seek refuge with (Allah) the Lord of the daybreak,


مِنۡ  شَرِّ مَا خَلَقَ ۙ﴿۲﴾

মিন শাররি মা-খালাক।

তিনি যা সৃষ্টি করেছেন উহার অনিষ্টতা হতে।

From the evil of what He has created;


وَ مِنۡ  شَرِّ غَاسِقٍ  اِذَا وَقَبَ ۙ﴿۳﴾

ওয়া মিন শাররি গা-ছিকিন ইযা-ওয়াকাব।

অনিষ্টতা হতে রাতের, যখন ওটা অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়।

And from the evil of the darkening (night) as it comes with its darkness; (or the moon as it sets or goes away).


وَ مِنۡ  شَرِّ النَّفّٰثٰتِ فِی الۡعُقَدِ ۙ﴿۴﴾

ওয়া মিন শাররিন নাফফা-ছা-তি ফিল ‘উকাদ।

এবং ঐ সব নারীর অনিষ্টতা হতে যারা গ্রন্থিতে ফুৎকার দেয়,

And from the evil of the witchcrafts when they blow in the knots,


وَ مِنۡ  شَرِّ حَاسِدٍ  اِذَا حَسَدَ ٪﴿۵﴾

ওয়া মিন শাররি হা-ছিদিন ইযা-হাছাদ।

এবং অনিষ্টতা হতে হিংসুকের, যখন সে হিংসা করে।

And from the evil of the envier when he envies.


দুনিয়ার নাপাকি হতে বের হয়ে আসার পুরষ্কার

 দুনিয়ার নাপাকি হতে বের হয়ে আসার পুরষ্কার 


বাদশাহ হারূনুর রশীদের ষোল বছরের একটি ছেলে ছিল। সে দুনিয়া বিমুখ দরবেশদের সুহবতে বেশি বেশি থাকত। সে প্রায়ই কবরস্থানে গিয়ে মৃতদেরকে লক্ষ্য করে বলত, তোমরা আমাদের পূর্বে পৃথিবীতে ছিলে এবং এই পৃথিবীর মালিক ছিলে। এখন তোমরা কবরে শুয়ে আছ। হায়! যদি আমি জানতে পারতাম, তোমরা দুনিয়াতে কি করতে এবং লোকজন তোমাদের সম্পর্কে কি ধারণা পোষণ করত? সে এসব কথা বলত, আর ব্যাকুল হয়ে কাঁদত। একদিনের ঘটনা। এই ছেলে তার বাবা হারূনুর রশীদের নিকট এলো। এ সময় বাদশাহর চতুর্দিকে উযীর-নাযীর ও মন্ত্রী পরিষদ সকলেই বসা ছিলেন। বাদশাহর ছেলের শরীরে তখন একটি কম্বল আর পরনে একটি কম্বল ছিল। তাকে এই অবস্থায় দেখে বাদশাহর সভাপরিষদের কেউ কেউ বলতে লাগল, খলীফাতুল মুসলিমীনের এই ছেলেই হুজুরের বদনাম করবে। হুজুর যদি তাকে একটু শাসন করতেন তাহলে তার এই অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যেত। ধীরে ধীরে এই কথা হারূনুর রশীদের কানে এসে পৌছল। বাদশাহর ও এই পরামর্শ পছন্দ হলো। তিনি তাঁর ছেলেকে বললেন, ছেলে আমার! তোমার এই চাল-চলন আমাকে অপমানিত করছে। ছেলে এই কথা শুনে হারূনুর রশীদের দিকে তাকাল, কোন কথা বলল না। ঘটনাক্রমে তখন একটি পাখি কেল্লার গম্বুজে বসা ছিল, বাদশাহর ছেলে ঐ পাখিটির প্রতি লক্ষ্য করে বলল, হে পাখি তোমার সৃষ্টিকর্তার কসম! তুমি আমার হাতে এসে বস। পাখি তাঁর কথা শুনে সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হাতে এসে বসল। কিছুক্ষণ পর সে আবার বলল, তোমার স্থানে চলে যাও এবং তোমার সৃষ্টিকর্তার কসম! তুমি আমীরূল মুমিনের হাতে বসবে না। পাখিটি তার স্থানে গিয়ে বসল, আর উঠল না। ছেলে তার এই ক্ষমতা, সভাপরিষদকে দেখিয়ে তার বাবাকে লক্ষ্য করে বলল, বাবা আপনি যখন আমাকে দুনিয়ার কারণে অপমানিত করলেন, তখন আমি সংকল্প করি নিয়েছি যে, আমি, আপনার থেকে পৃথক হয়ে যাব। এ কথা বলে সে কোন আসবাব পত্র ও পাথেয় ছাড়াই বের হয়ে গেল। তার সঙ্গে শুধু একটি কোরআন শরীফ ও একটি আংটি ছিল। সে চলতে চলতে বসরা শহরে এসে থামল। সে ওখানকার মজদুরদের সঙ্গে মাটি কাটার কাজ শুরূ করল। সে সপ্তাহে একদিন এক দেরহাম ও এক দেরহামের ষষ্ঠাংশের বিনিময়ে কাজ করত এবং আয় অনুযায়ী ব্যয় করত। হযরত আবু আমের বসরী (রাহঃ) বলেন, আমার ঘরের একটি দেয়াল ধ্বসে গেলে আমি মেরামত করার জন্য মজদুরের তালাশে বের হলাম। আমি দেখলাম, মজদুরদের মধ্যে খুব সুন্দর একটি ছেলে বসে আছে। আমি এমন সুন্দর ছেলে ইতিপূর্বে আর কখনও দেখিনি। তার সামনে একটি বস্তা ছিল, আর সে কোরআন তিলাওয়াত করছিল। আমি তাকে বললাম, এই ছেলে, কাজ করবে? সে বলল, হ্যাঁ। আমরা তো কাজের জন্যই সৃষ্টি হয়েছি। তবে কাজটা কোন ধরনের? আমি বললাম, মাটির কাজ। সে বলল, উত্তম কাজ। তবে আমাকে এক দেরহাম ও এক দেরহামের ষষ্ঠাংশ দিতে হবে এবং নামাযের সময় নামায পড়ার সময় দিতে হবে। আমি বললাম, ঠিক আছে। আমি তাকে নিয়ে এসে কাজ বুঝিযে দিয়ে চলে গেলাম। মাগরিবের সময় এসে দেখি, সে একাই দশজনের মতো কাজ করেছে। আমি তাকে তার দাবীকৃত মজুরীর চেয়ে দুই দেরহাম বেশি দিতে চাইলাম। সে বলল, হে আবু আমের! আমি এই দুই দেরহাম নিয়ে কি করব? সে তা নিতে অস্বীকার করল। অবশেষে আমি তাকে এক দেরহাম ও এক দেরহামের ষষ্ঠাংশ দিয়ে বিদায় করলাম। দ্বিতীয় দিন আমি সকালে বাজারে গেলাম, কিন্তু সবদিকে খোঁজ নিয়ে তাকে আর পেলাম না। আমি লোকদের কাছে তার বিবরণ দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, সেই ছেলেটি কোথায় গেছে? তারা বলল, সে শুধু সপ্তাহে একদিন মজদুরী করে। আপনি তাকে বাজারের দিন দেখতে পাবেন। আমি মনে মনে ভাবলাম, কাজ আপাতত স্থগিত রাখব যখন সে আসবে তখন তাকে দিয়েই অবশিষ্ট কাজ করাব। অতঃপর যখন বাজারের দিন এলো, আমি তাকে অনুসন্ধান করার জন্য বাজারে গেলাম। গিয়ে দেখি, সে বসে আছে। আমি তাকে সালাম করে কাজের কথা বললাম, সে পূর্বের মতো আমার সঙ্গে শর্ত করল। আমি তার শর্ত গ্রহণ করে তাকে নিয়ে এলাম এবং তাকে কাজে লাগিয়ে দিয়ে দূরে বসে দেখলে লাগলাম, সে কিভাবে একা দ্রুত কাজ করে। আমি এমন স্থানে বসলাম, যেন সে আমাকে দেখতে না পায়। আমি দেখলাম, সে হাতে পাথর নিয়ে দেয়ালে স্তুফ করে রাখছে, আর পাথরগুলো আপনা থেকেই লেগে যাচ্ছে। তখন আমি মনে মনে বললাম, নিশ্চয় সে কোন আল্লাহ্ওয়ালা হবে। তাই আল্লাহ্ তার কাজে সাহায্য করছেন। সন্ধ্যার সময় যখন সে ফিরে যেতে চইল তখন আমি তাকে তিন দের হাম দিতে চাইলাম। সে নিতে অস্বীকার করল এবং এক দেরহাম ও এক দেরহামের ষষ্ঠাংশ নিল। তিন দিন পর আমি বাজারে এসে তাঁর খোঁজ নিলাম, কিন্তু তাঁকে পেলাম না। লোকজন বলল , সে এক নির্জন স্থানে তিন দিন যাবৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে আছে। তার অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক। আমি সেই ব্যক্তিকে সামান্য কিছু বকশিস দিয়ে বললাম, ভাই আমাকে তার কাছে নিয়ে চল। সে আমাকে এক নির্জন স্থানে নিয়ে গেল। গিয়ে দেখি, ওখানে ঘর-দুয়ার কিছুই নেই । সে নিঃস্ব-অসহায়ের মতো বেহুঁশ হয়ে পড়ে আছে। আমি তাকে সালাম দিলাম। সে আমাকে দেখে মাথা উঠাল। দেখলাম, তার মাথার নিছে একটি ইটের টুকরা রাখা আছে। সে মৃত্যৃর দোরগোড়ায় পৌছে গেছে। আমি দ্বিতীয়বার তাকে সালাম দিলাম। সে চোখ খোলল এবং আমাকে চিনতে পারল। আমি তার মাথা আমার কোলে রাখলাম। সে আমাকে এমন করতে নিষেধ করল এবং একেটি কবিতা পড়ল যার অর্থ – “বন্ধু আমার! স্বচ্ছল জীবন যেন তোমায় ধোঁকা না দেয়। এই জীবন একদিন শেয় হয়ে যাবে এবং এই আরাম-আয়েশ একদিন নিঃশেষ হয়ে যাবে। যখন তুমি কোন জানাযা কবরস্থানে নিযে যাবে, তখন থেকে মনে রেখ এরপর তোমাকে ও একদিন কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে”। অতঃপর সে বলল, হে আবু আমের! আমার প্রাণ-পাখি যখন এই দেহপিঞ্জর থেকে উড়ে যাবে তখন তুমি আমাকে গোসল দিবে এবং আমার পরিহিত কাপড়েই আমাকে কাফন পরাবে। আমি বললাম, কেন তোমাকে নতুন কাপড়ে কাফন পরাব না? সে বলল, মৃত ব্যক্তির তুলনায় জীবিত ব্যক্তিই নতুন কাপড়ের অধিক হকদার। আমার গোটা জীবনটাইতো এভাবে কাটিয়ে দেলাম। এখন নতুন কাপড় হলেও তা মাটি হয়ে যাবে, কিন্তু যা অবশিষ্ট থাকবে, তা হলো নেক আমল। আমার এই বস্তা এবং লুঙ্গী কবর খননকারীকে দেবে। আর এই কোরআন শরীফ এবং আংটি আমীরুল মুমিনীন হারুনুর রশীদের নিকট পৌছে দিবে। তুমি নিজ হাতে আমীরুল মুমিনীনকে এগুলো দিবে এবং বলবে, আমার নিকট অপনার একটি আমানত আছে, এক মুসাফির বালক তা আমাকে দিয়েছে। আমীরুল মুমিনীনকে এটাও বলবে যে, আপনি হুসিয়ার থাকুন, এই গাফলতী এবং প্রতারণার মাঝেই যেন আপনার মৃত্যু না এসে যায়। বালক কথা বলছিল এমন সময় হঠাৎ তার প্রাণপাখি বের হয়ে গেল। সে মৃত্যুবরণ করল। তার মৃত্যুর পর আমি জানতে পারলাম যে সে খলীফার কলিজার টুকরো পুত্র। আমি তাঁর সকল ওসিয়ত পূণ্য করলাম এবং কোরআন শরীফ ও আংটি নিয়ে বাগদাদ আসলাম। বাগদাদ এসে আমি খলীফার মহলের দিকে রওনা হলাম। পথিমধ্যে একটি উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে দেখলাম, প্রায় এক হাজার সেন্য বাহিনীর একটি দল এগিয়ে আসছে। তাদের পিছনে আরো দশটি দল আসছিল । প্রত্যেক দলে অন্তত এক হাজার করে সৈন্য ছিল। দশ নম্বর দলটিতে আমীরুল মুমিনীন হারুনুর রশীদ ছিলেন। আমি চিৎকার করে কললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! আল্লাহ্ ও আল্লাহর রাসূলের নৈকট্যের কসম! আমার কথা একটু শুনুন। আমীরুল মুমিনীন আমার কথা শুনে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমি তাঁর নিকটে গিয়ে সেই কোনআন শরীফ ও আংটিটি তাঁকে দিলাম এবং তাঁর ছেলে আমাকে যা বলতে বলেছিল আমি সবকিছু বললাম। আমীরুল মুমিনীন আমার কথা শুনে সামান্য সময় মাথা নিচু করে রাখলেন এবং কাঁদলেন। অতঃপর খাদেমকে বললেন, এই লোককে তোমার কাছে রাখ, যখন আমি খোঁজ করব তখন আমার সামনে নিয়ে আসবে। অতঃপর বাদশাহ্ শাহীমহলে ফিরে এসে খাসকামরায় বসে প্রহরীকে ডেকে বললেন, সেই লোককে নিয়ে এসো। প্রহরী আমার কাছে এসে বলল, হে আবু আমের! আমীরুল মুমিনীন খুবই চিন্তিত, তোমার যদি একান্তই তাঁর সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হয়, তাহলে দশটার জাগায় পাঁচটা কথা বলবে। আমি বললাম, ঠিক আছে। আমি ভিতরে প্রবেশ করলাম। আমীরুল মুমিনীন আমাকে বললেন, হে আবু আমের! আমার কাছে এসে বাসো। আমি তাঁর নিকটে গিয়ে বসলাম। তিনি আমাকে বললেন, তুমি আমার ছেলেকে চিনতে? সে কি কাজ করত? আমি বললাম, সে রাজমিস্ত্রির কাজ করত। অতঃপর বললেন, তুমিও কি তার দ্বারা এই কাজ নিয়েছ? আমি বললাম, হ্যাঁ, নিয়েছি। তিনি বললেন, তাঁর দ্বারা এমন কাজ নিতে কি তোমার লজ্জা হলো না? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আত্বীয়তার প্রতিও তুমি সম্মান প্রদর্শন করলে না? আমি বললাম, হে আমীরুল মুমিনীন! আমাকে ক্ষমা করুন, আমি সে সময় তাঁর পরিচয় জানতে পারিনি। তাঁর মৃত্যুর পর আমি জানতে পরি যে, তিনি খলীফাতুল মুসলিমীনের প্রাণপ্রিয় পুত্র। অতঃপর তিনি বললেন,তুমি কি তাঁকে নিজ হাতে গোসল দিয়েছ, আমি বললাম, হ্যাঁ, আমি নিজ হাতে তাকে গোসল দিয়েছি। তিনি বললেন, তোমার হাত দু’টো একটু বাড়াও। এ কথা বলে তিনি আমার হাত দু’টি নিয়ে তাঁর বুকের উপর রাখলেন এবং অঝোর ধারায় কাঁদলেন। অতঃপর বললেন, তুমি কিভাবে এই নিঃস্ব , অসহায়কে কাফন পরিয়েছ এবং কিভাবে তার উপর মাটি দিতে সাহস করেছ? এ কথা বলে তিনি খুবই বেদনাদায়ক একটি কবিতা পাঠ করলেন এবং বসরা পৌছে আপন পুত্রের কবরের সামনে দাঁড়ালেন। তিনি যখন কবর দেখলেন তখন বেহুঁশ হয়ে গেলেন। পরে হুঁশ ফিরে এল তিনি কয়েকটি দুঃখের করিতা পাঠ করলেন। সে সময় উপস্থিত সকলেই আমীরুল মুমিনীনের দুঃখ দেখে কাঁদতে লাগলেন। হযরত আবু আমের বলেন, সেই রাতে আমি আমার ওযীফা আদায় করে শুয়ে পড়লাম। স্বপ্নে দেখি, একটি নুরের গম্বুজ। তার উপর নূরের আবরণ। হঠাৎ আবরণ সরে গেল এবং হারুনুর রশীদের সেই ছেলে ঐ গম্বুজ থেকে বের হয়ে এসে আমাকে বলল, হে আবু আমের! আল্লাহ তাআলা তোমাকে উত্তম বিনিময় দান করুন। তুমি যথাযথভাবে আমার ওসিয়ত পূর্ণ করেছ। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, বাছা! তোমার অবস্থা কেমন, আর তোমার ঠিকানা কোথায় হয়েছে? সে বলল, আমি আমার অতিশয় দয়ালু ও মেহেরবান পরওয়ারদিগারের নিকট আছি। তিনি আমার প্রতি সন্তুষ্ট আছেন। তিনি আমাকে এমন এমন নেয়ামত দান করেছেন যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শুনেনি, এমনকি কারো অন্তরে ও সে সবের কল্পনা উদিত হয়নি। আল্লাহ তাআলা আমাকে লক্ষ্য করে কসম খেয়ে বলেছেন, যে বান্দাই দুনিয়ার নাপাকি হতে তোমার মতো বের হয়ে আসবে, তাকেই আমি এইসব নেয়ামত দান করব। অতঃপর যখন আমার ঘুম ভাঙ্গলো তখন তার সুসংবাদের কারণে আমার মনে এক ধরণের প্রশান্তি অনুভূত হলো।

Saturday, 11 September 2021

কাফন চোরের ঘটনা

 এক কাফন চোরের সত্য কাহিনীঃ-


আব্দুল মালেক বিন মারওয়ান (রহঃ) থেকে বর্ণিত, তার কাছে একবার এক লোক এসে বলল- হে আমীরুল মূমিনীন, আমি তো জঘন্য গোনাহ করি, আমার কি মাফ আছে??


আব্দুল মালেক বিন মারওয়ান (রহঃ) বললেন- আল্লাহ সকল বান্দারই তাওবা কবুল করেন আর গোনাহ মাফ করে থাকেন।।


সে বলল- ও আমীরুল মূমিনীন!! আমি কবর থেকে কাফন চুরি করতাম।। আমি অত্যন্ত আজব আজব ঘটনা স্বচক্ষে দেখেছি!!


১) একবার আমি এক কবর খুড়ে দেখলাম মৃত ব্যক্তির মুখ কিবলার দিক থেকে বিপরীত দিকে ঘুরিয়ে দেয়া।। আমি ভয় পেয়ে কবর থেকে বেরিয়ে আসলে গায়েব থেকে আওয়াজ হল- “মৃত ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস কর কেন তার মুখ কিবলা থেকে উল্টিয়ে দেয়া হয়েছে!!”

আমি লাশকে প্রশ্ন করলাম- “তোমার চেহারা কিবলা থেকে উল্টিয়ে রাখার কারণ কী??”

ঐ মৃত লাশ উত্তর দিল- এই যুবক নামায নিয়ে অবহেলা করতো।। যারা নামায নিয়ে অবহেলা করে তাদের শাস্তি এই।।


২) আমি আরেকটি কবর খুঁড়ে দেখি কবরে লাশের বদলে একটি শূকর বাঁধা আছে!! আমি ভয় পেয়ে বেরিয়ে আসলে গায়েব থেকে আওয়াজ হল- “তুমি কি জানতে চাও এই লোকের কাজ কি ছিল??”

আমি জানতে চাইলাম “কি??”

গায়েব থেকে আওয়াজ হল- সে মদপান করত!! আর তাওবা না করেই মারা গেছে!!


৩) আমি আরেকটি কবর খুঁড়ে দেখি- ভিতরে লাশকে আগুনের দড়ি দিয়ে মাটির সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে, আর তার জিহ্বা তার পশ্চাৎদেশ দিয়ে বের করা হয়েছে।। আমি ভয় পেয়ে বেরিয়ে আসলে গায়েব থেকে আওয়াজ হল- “তুমি কি জানতে চাও এই লোকের কাজ কি ছিল??”

আমি জানতে চাইলাম “কি??”

গায়েব থেকে আওয়াজ হল- সে পেশাব থেকে ঠিকমত পরিষ্কার হত না, আর সে একজনের কথা আরেকজনের কানে লাগিয়ে বেড়াত।।


৪) আমি আরেকটি কবর খুঁড়ে দেখি- মৃত লাশ থেকে আগুনের ফুলকি বের হচ্ছে (ঝালাই করার সময় যেমন হয়)।।

আমি ভয় পেয়ে বেরিয়ে আসলে গায়েব থেকে আওয়াজ হল- “তুমি কি জানতে চাও এই লোকের কাজ কি ছিল??”

আমি জানতে চাইলাম “কি??”

গায়েব থেকে আওয়াজ হল- সে নামায তরক (ইচ্ছাকৃত ছেড়ে দেয়া) করত।।


৫) আমি আরেকটি কবর খুঁড়লাম, খুঁড়ে দেখি কবরটি ভিতরে যতদূর চোখ যায় প্রশস্ত হয়ে আছে, ঝলমলে আলোয় আলোকিত, লাশটি একটি বিছানায় শুয়ে আছে।। তার দেহে চমৎকার পোশাক।।

আমি অবাক হয়ে বেরিয়ে আসলাম!! গায়েব থেকে আওয়াজ হল- “তুমি কি জানতে চাও এই লোক কেমন ছিল??”

আমি বললাম “বলুন”।।


গায়েব থেকে বলা হল- “সে ছিল আল্লাহর অনুগত যুবক, (যৌবনের চাঞ্চল্য স্বত্তেও) সে আল্লাহর আনুগত্য এবং ইবাদাতে জীবন অতিবাহিত করেছে।।”


 এই ঘটনা শুনে আব্দুল মালেক বিন মারওয়ান (রহঃ) বলেন- এই ঘটনায় পাপাচারীদের জন্য উপদেশ আর নেককারদের জন্য সুসংবাদ আছে।।


 সূত্রঃ কিতাবুল কাবায়ের- ১০৩ ও ১০৪ পৃষ্ঠা। লেখকঃ ঈমাম শামসুদ্দিন আয যাহাবী (রহঃ)।

Thursday, 9 September 2021

সূরা আন-নাস(মানব জাতি)Surah an-nass

 সূরা আন-নাস (আরবি: سورة الناس‎‎; মানবজাতি) মুসলমানদের ধর্মীয় গ্রন্থ কুরআনের ১১৪ তম এবং সর্বশেষ সূরা; এর আয়াত, অর্থাৎ বাক্য সংখ্যা ৬ এবং রূকু, তথা অনুচ্ছেদ সংখ্যা ১। ... এই সূরাটি এবং এর পূর্ববর্তী সূরা আল-ফালাককে একত্রে মু'আওবিযাতাইন (আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার দু'টি সূরা) নামে উল্লেখ করা হয়।


بِسۡمِ اللّٰہِ الرَّحۡمٰنِ الرَّحِیۡمِ

বিছমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু।

In the Name of Allah, the Most Beneficent, the Most Merciful.


قُلۡ  اَعُوۡذُ  بِرَبِّ النَّاسِ ۙ﴿۱﴾

কুল আ‘ঊযুবিরাব্বিন্না-ছ,

বলঃ আমি আশ্রয় চাচ্ছি মানুষের রবের,

Say: I seek refuge with (Allah) the Lord of mankind,


مَلِکِ النَّاسِ ۙ﴿۲﴾

মালিকিন্না-ছ,

যিনি মানবমন্ডলীর বাদশাহ বা অধিপতি।

The King of mankind,


اِلٰہِ  النَّاسِ ۙ﴿۳﴾

ইলা-হিন্না-ছ।

যিনি মানবমন্ডলীর উপাস্য।

The Ilah (God) of mankind,


مِنۡ  شَرِّ الۡوَسۡوَاسِ ۬ۙ  الۡخَنَّاسِ ۪ۙ﴿۴﴾

মিন শাররিল ওয়াছ ওয়া-ছিল খান্না-ছ।

আত্মগোপনকারী কু-মন্ত্রণাদাতার অনিষ্টতা হতে।

From the evil of the whisperer (devil who whispers evil in the hearts of men) who withdraws (from his whispering in one's heart after one remembers Allah),


الَّذِیۡ یُوَسۡوِسُ فِیۡ صُدُوۡرِ النَّاسِ ۙ﴿۵﴾

আল্লাযী ইউওয়াছবিছুফী সুদূরিন্নাছ-।

যে কু-মন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে,

Who whispers in the breasts of mankind,


مِنَ الۡجِنَّۃِ وَ النَّاسِ ٪﴿۶﴾

মিনাল জিন্নাতি ওয়ান্না-ছ।

জিনের মধ্য হতে অথবা মানুষের মধ্য হতে।

Of jinns and men.


Wednesday, 8 September 2021

মানুষের পতনের দুই কারণ

 সবর, সহনশীলতা, পরিশ্রম, কষ্ট ও বীরত্বপূর্ণ জীবন-যাপন মুমিন জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সুখ-দুঃখ, আনন্দ-মুসিবত সব সময়ই মুমিন এ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হবে। মুমিন মুসলমান কখনো আরাম প্রিয়, পরিশ্রমবিমুখ, কোমলতা প্রিয়, অলস, সুখপ্রত্যাশী, অমনোযোগী ও দুনিয়া পূজারি হতে পারে না।


এ কারণেই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার প্রিয় সাহাবি হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহুকে ইয়েমেনের গভর্নর করে পাঠানোর সময় এ মর্মে নসিহত করেছিলেন যে-

'হে মুয়াজ! আরাম প্রিয়তা থেকে বিরত থাকবে। কেননা, আল্লাহর বান্দারা আরাম প্রিয় হন না।' (মিশকাত)


ইমাম আবু দাউদ রাহমাতুল্লাহি আলাইহি তার বিখ্যাত গ্রন্থ আবু দাউদে, হজরত আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় উল্লেখ করেন-

‘সাদাসিধে (সাধারণ) জীবন-যাপনকে ঈমানের নিদর্শন বলেছেন বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।'


যারাই আরাম প্রিয়তার দিকে ঝুঁকে পড়েছে, দুনিয়ার প্রতি আসক্ত হয়েছে, ইসলামের জন্য মৃতু্যকে ভয় করেছে, তাদের অনিবার্য ধ্বংসের ব্যাপারে সতর্ক বার্তা তুলে ধরেছেন প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়া সাল্লাম। হাদিসে এসেছে-


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবায়ে কেরামকে সম্বোধন করে বললেন- 'আমার উম্মতের উপর ঐ সময় খুবই কাছাকাছি, যখন অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠীর লোকেরা তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে, যেভাবে লোকেরা খাবার গ্রহণে ঝাঁপিয়ে পড়ে।


তখন এক সাহাবি জিজ্ঞাসা করলেন- হে আল্লাহর রাসুল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, আমাদের সংখ্যা কি এতই কম হবে যে, আমাদের ধ্বংসের জন্য অন্যান্য জাতি-গোষ্ঠীর লোকেরা একত্রিত হয়ে আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে?


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- 'না', সে সময় তোমরা সংখ্যায় কম হবে না বরং সে সময় তোমাদের সংখ্যা অনেক বেশি হবে। কিন্তু তোমরা বন্যায় ভাসমান খড়কুটার মতো হালকা হবে। তোমাদের শত্রুুদের অন্তর থেকে তোমাদের প্রভাব দূর হবে আর হীনমন্যতা ও কাপুরুষতা তোমাদের ঘিরে ধরবে।

একজন সাহাবি জানতে চাইলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! কেন এ হীনমন্যতা আসবে?


তখন তিনি (প্রিয় নবি) বললেন- এ (দুইটি) কারণে যে-

- ঐ সময় দুনিয়ার প্রতি তোমাদের ভালোবাসা বেড়ে যাবে। আর

- মৃত্যুকে ভয় করতে থাকবে।'


বাস্তবেই দেখা যাচ্ছে, বর্তমানে মুসলমানের মাঝে এ দুইটি বিষয় লক্ষ্যণীয় হারে বেড়েছে। পরকালের তুলনায় দুনিয়াকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে মানুষ। পক্ষান্তরে পরকালের ভয়ে মৃতু্যকে স্মরণ না করে বরং ইসলামি জীবন-যাপনে মৃতু্যর আশংকায় দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছে মুসলমান।

নিজেকে পরিবর্তন করবো কিভাবে

 নিজেকে ধাপে ধাপে পরিবর্তন করুনঃ


টাস্কঃ ১ 


ইমানকে দৃঢ় রাখতে চেস্টা করুন। 

সকল প্রকার ছোট শিরক, বড় শিরককে না বলুন। 

আল্লাহ ছাড়া আল্লাহর কোন সৃষ্টিকে ভরসা করবেন না। 

একমাত্র আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইবেন।


টাস্কঃ ২


৫ ওয়াক্ত নামাজ কন্টিনিউ করুন। 

সাথে ১২ রাকাত সুন্নত পড়তেই হবে। কোনভাবেই মিস দিবেন না।


টাস্কঃ ৩


হারাম বর্জন করুন। 

হারাম রিলেশন, গান-বাজনা, নাটক, মুভি ইত্যাদি।

হারামে লিপ্ত থাকলে ইবাদত কবুল হয় না।


টাস্কঃ ৪ 


গীবত, পরনিন্দা, অহংকার এই তিনটি জিনিস আপনার ব্যাক্তিস্বত্তা থেকে উপড়ে ফেলুন।

মনে রাখবেন, গীবত আপনার তাহাজ্জুদ ছিনিয়ে নেবে, যার নামে গীবত করবেন সে অনায়াসে সে আপনার নফল ইবাদত নিয়ে নেবে।সো দরকার কি? 

এতো কস্ট করে ইবাদত করেন সামান্য জিনিসের জন্য সেটা বিফলে যাবে।জবানের হিফাজত করুন। 

বেশি বেশি বই ইস্তিগফার পড়ুন। 


টাস্কঃ ৫


আপনার বন্ধু মহলে খারাপ কেউ থাকলে সাময়িক সময়ের জন্য বিরতি নিন। 

কিছু সময় একা থাকুন। 

বেশি বেশি মৃত্যুর কথা স্মরন করুন। 

নামাজে সিজদাহকে দীর্ঘ করুন। 

এতে রবের সাথে আপনার সম্পর্ক দৃঢ় হবে।


টাস্কঃ ৬


৫ ওয়াক্ত নামাজের পর অন্তত ৫ আয়াত হলেও কুরআন পড়বেন। 

সাথে ৫ আয়াতের অর্থও পড়বেন। 

কুরআনের সাথে সম্পর্ক বাড়িয়ে দিন। 

কুরআন আপনার সম্মান বাড়িয়ে দেবে ১০০%!


টাস্কঃ ৭


মেয়েরা প্রোপারলি পর্দা করার চেস্টা করবেন। 

কোন রকম গায়রে মাহরামের সামনে যেতে পারবেন না, আকর্ষণীয় কন্ঠে কথা বলতে পারবেন না।


টাস্কঃ ৮


ফোন থেকে এক ক্লিকেই গান, মুভি, সিনেমা ডিলেট করে দিন।


টাস্কঃ ৯


প্রতিদিন ৫ বার আজানের জবাব দেয়া।আজানের জবাবের মধ্যে অফুরন্ত ফজিলত রয়েছে। 

মাত্র ২/৩ মিনিটে এই আমলটা করে নেবেন।


টাস্কঃ ১০


প্রতিদিন ১০০ বার করে 

১)সুবহানাল্লাহ 

২)আলহামদুলিল্লাহ 

৩)আল্লাহু আকবার 

৪)লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ 

৫)আস্তাগফিরুল্লাহ 

৬)সুবহানাল্লহি ওয়া বিহামদিহী 

৭)সুবহানাল্লাহিল আজিম পড়া। 

আল্লাহর পছন্দের বাক্যগুলা বেশি বেশি পড়া। 


টাস্কঃ ১১


এইবার নতুন কিছু শুরু হোক। 

এশার সালাত আদায় করে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে যাওয়া। 

তাহাজ্জুদের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন। 

দ্রুত ঘুমালে তাহাজ্জুদের জন্য নিজ থেকেই জেগে উঠতে পারবেন। 

আর দেখবেন যেন অলৌকিক ভাবেই উঠছেন।


টাস্কঃ ১২ 


প্রতিদিন সকালে একবার 

বিকেলে একবার "সাইয়্যেদুল ইস্তেগফার" পড়ুন। 


টাস্কঃ ১৩


যতবারই কোন না কোন ভুল করবেন ততবারই তাওবা করবেন। 

আল্লাহ ত্বওবাকারীকে ভালোবাসেন।


এই ধাপ গুলো ফলো করুন।

দেখবেন  ইনশা আল্লাহ আপনার আমলের দিকে  মন ছুটতে থাকবে

জাযাকাল্লাহ খয়রান অর্থ কি

 কাউকে "Thank you" বলার পরিবর্তে "জাযাকাল্লাহু খাইরান" বলা শুরু করেছি বেশ কয়েক বছর হল। কিন্তু, নীচের লেখাটা পড়ার পর ব্যাপারটা যেভাবে বুঝলাম, জানলাম এবং এখন কাউকে কথাটা বলার সময় মনের যে অবস্থা হয় বা ভবিষ্যতে হবেও ইনশাআল্লাহ, অতীতে তা কখনোই ছিল না। এজন্যই বোধহয় "যে জানে আর যে জানে না" তারা কখনোই সমান নয়। 

যাই হোক, লেখাটা যিনি লিখেছেন এবং যার শেয়ার করার কারণে আমি লেখাটা পড়তে পেরেছি এবং অন্যকে জানাতে পারছি, আল্লাহ তায়ালা যেন তাদের দু'জনকেই উত্তম জিনিস দেন। আমীন।


আপনি কি জানেন, ﺟَﺰَﺍﻙَ ﺍﻟﻠّٓﻪُ ﺧَﻴْﺮًﺍ (জাযাকাল্লাহু খাইরান)-এর অর্থ কি?

.

আপনি যখন কাউকে ভাল, সুন্দর বা তার পছন্দসই কোন কাজ উপহার দেন তখন হয়ত অনেক মানুষই আপনাকে বলে থাকেন, "জাযাকাল্লাহু খাইরান"। বা, আমি-আপনিও বলে থাকি কখনো কখনো। কিন্তু আমরা কি জানি যে এই বাক্যটির অর্থ কি? আসুন, জেনে নেই বাক্যটির অর্থ। এর বেশ সুন্দর কয়েকটি অর্থ রয়েছে।

.

১। ﺧﻴﺮ ( খাইর) শব্দটি সে সমস্ত বিষয়কে বুঝায় যা আল্লাহর নিকট প্রিয়। তাই "খাইর" শব্দের মাধ্যমে সবরকমের কল্যাণ কামনা করা হয়।

.

২। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে জান্নাত এবং জান্নাতে তাঁর দিদার দ্বারা সৌভাগ্যবান করুন।

.

৩। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে কফিরদের স্থান জা~হান্নাম থেকে হেফাজত করুন।

.

৪। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনাকে সিরাতে মুস্তাক্বিম তথা সরল পথে পরিচালিত করেন।

.

৫। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনার উপর কোন অভিশপ্ত শয়তানকে চাপিয়ে না দেন।

.

৬। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনার রিজিকের মধ্যে বরকত দান করেন।

.

৭। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ শেষ দিবস পর্যন্ত আল্লাহ যেন আপনাকে মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহারকারী করেন।

.

৮। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ যেন আপনাকে রাসূলের সুন্নাতের অনুসারী করেন।

.

৯। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" অর্থঃ আল্লাহ আপনাকে নেক সন্তান দান করুন।

.

১০। "জাযাকাল্লাহু খাইরান" আল্লাহ আপনাকে সবরকম কল্যাণ দান করুন।

.

এর আরো অসংখ্য অর্থ রয়েছে। কেননা খাইর ( ﺧﻴﺮ ) আল্লাহর নিকট অগণিত। যা গণনা করা অসম্ভব। তবে আমরা বাক্যটির শাব্দিক অর্থ করি, "আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন"।

Tuesday, 7 September 2021

তােমরা মুশরেকদের বিরােধিতা করে দাড়ি লম্বা করাে আর গোঁফ কেটে ছােট করাে।”

 দাড়ি রাখা ওয়াজিব এবং দাঁড়ি না রাখার ক্ষতি

➖➖➖➖➖➖🕸️➖➖➖➖➖➖


🔲দাড়ি রাখা ওয়াজিব

═══════════

আমাদের আরও একটি ব্যাপার লক্ষণীয়। আর তা হচ্ছে শরীঅতসম্মত দাড়ি রাখা। লােকেরা একে ভালাে মনে করে; কিন্তু জরুরি মনে করে না। অথচ এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও বিতর নামায পড়া যেরূপ জরুরি, দাড়ি রাখাও তদ্রুপ জরুরি। কারণ, দাড়ি রাখা ওয়াজিব। হাদীস শরীফে এর অনেক তাকীদ এসেছে। যেমন : মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন... 


خالفوا المشركين وفروا اللحى وأحفوا الشوارب


‘তােমরা মুশরেকদের বিরােধিতা করে দাড়ি লম্বা করাে আর গোঁফ কেটে ছােট করাে।”


🔲দাড়ি না রাখার ক্ষতি

══════════


কেউ যদি রজনীগন্ধার চারা লাগায় কিংবা মালীহাবাদ থেকে ‘দসহরী’ আমের ‘কলম' এনে লাগায় আর দু'মাস পরপর তার ওপর কাঁচি চালায়, তাহলে কি সে ঐ গাছের কোনাে ফায়েদা পাবে?


তদ্রুপ শরীয়তসম্মত দাড়ি না থাকলে তার ফায়েদাও পাওয়া যায় না। ঐ ব্যক্তির মহব্বত (ভালােবাসা) মানুষের অন্তর থেকে চলে যাবে, সম্মান চলে যাবে। এ বিষয়টি এক বুযুর্গ কবিতা আকারে এভাবে বলেছেন :


অমুসলিমের অনুসারী হতে হয়েছি আমি নারাজ, 

বন্ধুর সাথে হয়েছে মিলন হােক না শত্রু তাতে নারাজ।

হিটলার কিংবা স্টালিনের মতাে রক্তপিপাসু 

নই কভু, 

হতে চাই আমি খালিদ ও আলীর মতাে 

হে প্রভু।


উৎসঃ প্রিয় নবীর ﷺ প্রিয় সুন্নাত | পৃষ্ঠা-২৯


──────⊱◈🌸◈⊰──────

গীবত সম্পর্কে কোরআনের আয়াত

 গীবত!গীবত!গীবত!

গাছ আমি লাগিয়েছি,যত্ন আমি নিয়েছি,কষ্ট আমি করেছি,সময় আমি দিয়েছি,তারপরও আমার গাছের খেজুর খাচ্ছে অন্যরা!

এর একমাত্র কারণ আমি অযথা নিজের দোষ ত্রুটি না দেখে অন্যের দোষ-ত্রুটি নিয়ে মাতামাতি করেছি।অযথা চায়ের আড্ডায় অন্যকে নিয়ে কটুকথা বলেছি। হায় আফসোস!😥

কেনো অন্যের সমালোচনা করে নিজের নেক-আমল সমুহ নষ্ট করবো?


গীবত তোমার তাহাজ্জুদ ছিনিয়ে নেবে,তাহাজ্জুদ না থাকলে সুন্নাত আমল নিয়ে নেবে,আর সেটাও না থাকলে তোমার ফরয ইবাদতের আমল নিয়ে নেবে,সবগু‌লোর কোনটা না থাক‌লে ছোট ছোট নেক আমলগু‌লো হ‌লেও নে‌বে,নে‌বেই।


গীবত সম্পর্কে আল্লাহতা’য়ালা পবিত্র কোরআনে এরশাদ করেন,

وَیْلٌ لِّكُلِّ هُمَزَةٍ لُّمَزَةِ


অর্থ: ধ্বংস ওই ব্যক্তির জন্য,যে লোক-সম্মুখে বদনামী করে এবং পৃষ্ঠ-পেছনে (অগোচরে) নিন্দা করে।

(সূরা হুমাযাহ্ : ১)


তাই,নিজের আমল অন্য কাউকে ফ্রিতে দিতে না চাইলে পরনিন্দা করা এখন হ‌তে বন্ধ করতে হবে।


আল্লাহ আমাদের অন্যের গীবত করা থেকে হেফাজত করুন..... আমিন।।

@Mufti Rafiq Bin wahab

Monday, 6 September 2021

ঈমানদার হওয়ার জন্য করনিয়

হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন তাঁর কাছে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয়। তিনি নিজের জীবন ও সুস্থতার চেয়েও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন ও সুস্থতাকে অগ্রগণ্য মনে করতেন। নিষ্ঠুর উতবা ইবনে রবিয়ার কর্তৃক মারাত্মক যখমের সময় এর প্রমাণ মেলে।

একবার নিষ্ঠুর উতবা ইবনে রবিয়া হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু মুখমন্ডল আঘাতে আঘাতে ক্ষত বিক্ষত করে দেয়। তাঁর বুকের উপর ওঠে বসে নিদারুণ নির্যাতন করেছিল। যখন তাঁর গোত্রের লোকেরা তাকে উদ্ধার করে, তখন সবার আশংকা ছিল সে মারা যাবে। সুস্থ হয়ে ওঠার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না।

অজ্ঞান অবস্থায় দিনশেষ তার হুঁশ ফিরে পায়। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবার আগে তার মুখ থেকে যে জিজ্ঞাসা বের হয়েছিল, তাহলো- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিরাপদ আছেন তো?

তাঁর গোত্রের লোকেরা তাকে আশ্বস্ত করার পরও তিনি নিশ্চিত হতে পারলেন না, তিনি কসম করে বললেন-

فَإِنّ لِلهِ عَلَيّ أَنْ لَا أَذُوقَ طَعَامًا وَلَا أَشْرَبَ شَرَابًا أَوْ أَتَى رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ.

‘আল্লাহর কসম! আমি ততক্ষণ পর্যন্ত দানাপানি স্পর্শ করবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাঁর সান্নিধ্য ও দর্শন পাবো!’ (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া)
(copy- জাগোনিউজ) 

Scorching Sun


রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন তাঁর কাছে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশি প্রিয়। তিনি নিজের জীবন ও সুস্থতার চেয়েও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন ও সুস্থতাকে অগ্রগণ্য মনে করতেন। নিষ্ঠুর উতবা ইবনে রবিয়ার কর্তৃক মারাত্মক যখমের সময় এর প্রমাণ মেলে।

একবার নিষ্ঠুর উতবা ইবনে রবিয়া হজরত আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু মুখমন্ডল আঘাতে আঘাতে ক্ষত বিক্ষত করে দেয়। তাঁর বুকের উপর ওঠে বসে নিদারুণ নির্যাতন করেছিল। যখন তাঁর গোত্রের লোকেরা তাকে উদ্ধার করে, তখন সবার আশংকা ছিল সে মারা যাবে। সুস্থ হয়ে ওঠার কোনো সম্ভাবনাই ছিল না।

অজ্ঞান অবস্থায় দিনশেষ তার হুঁশ ফিরে পায়। জ্ঞান ফিরে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবার আগে তার মুখ থেকে যে জিজ্ঞাসা বের হয়েছিল, তাহলো- রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিরাপদ আছেন তো?

তাঁর গোত্রের লোকেরা তাকে আশ্বস্ত করার পরও তিনি নিশ্চিত হতে পারলেন না, তিনি কসম করে বললেন-

فَإِنّ لِلهِ عَلَيّ أَنْ لَا أَذُوقَ طَعَامًا وَلَا أَشْرَبَ شَرَابًا أَوْ أَتَى رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ.

‘আল্লাহর কসম! আমি ততক্ষণ পর্যন্ত দানাপানি স্পর্শ করবো না, যতক্ষণ পর্যন্ত না তাঁর সান্নিধ্য ও দর্শন পাবো!’ (আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া)
(copy- জাগোনিউজ)

শিশুর প্রতি মা বাবার ভালোবাসা ও দায়িত্ব

 গভীর রাত পর্যন্ত শিশুকে নিয়ে সজাগ থাকে বাবা-মা। যার ফলশ্রুতিতে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গঠন হয না। যা পরবর্তী জীবনের উপর প্রভাব ফেলে। ...