Friday, 24 September 2021

দান ও সদকার মধ্যে প্রার্থক্য কী?হিল্লা বিয়ে কি জায়েজ?মৃত ব্যক্তির জন্য নামাজ ও কোরআন পড়া কি ঠিক?কোরআন পড়ার প্রতি আমার অনীহা হচ্ছে, এর কারণ কী? এখন আমার কী করা উচিত?

 গুরত্বপূর্ণ ৪টি প্রশ্ন-উত্তর


১.প্রশ্ন : মৃত ব্যক্তির জন্য নামাজ ও কোরআন পড়া কি ঠিক?


উত্তর : মৃত ব্যক্তির জন্য নামাজ ও কোরআন পড়া জায়েজ নেই। এগুলো আল্লাহর জন্য পড়া হয়, কোনো মানুষের জন্য। কোনো ব্যক্তির জন্য নামাজ, রোজা, কোরআন পড়া জায়েজ নেই। বরং এসব করলে এগুলো বেদআত হবে। আপনি এসব ইবাদত করবেন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। এসব ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্য। আপনি যেটা করতে পারেন সেটা হলো, মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করতে পারেন। দান-সদকা করতে পারেন, এসব মৃত ব্যক্তির জন্য করতে পারেন।


২.হিল্লা বিয়ে কি জায়েজ? 


উত্তর : হিল্লা বিয়ে নামে আমাদের সমাজে যে প্রচলন রয়েছে, এটা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম। এটি একটি সামাজিক অনাচার। এটাকে বিয়ে বলা হয়ে থাকে, কিন্তু এটি একটি হারাম কাজ। যিনি এই বিয়ে করবেন, তিনি হারাম কাজ করবেন। এমনকি এই বিয়ের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত থাকবেন, তাঁরা অভিশপ্ত হবেন। আর, যার উদ্দেশ্যে এই বিয়ে করা হবে, তিনিও অভিশপ্ত হবে। এটি একটি অনাচার। সুতরাং এ ধরনের হিল্লা বিয়ের সঙ্গে যাঁরা জড়িত, তাঁরা সবাই গুনাহগার হবেন। ইসলামের ভাষায় তাঁরা অভিশপ্ত। এটা যদি কোনো সমাজে প্রচলিত থাকে, তাহলে সে সমাজ অনাচারে লিপ্ত। এই অনাচার থেকে আল্লাহ রক্ষা করুন।


৩.প্রশ্ন : দান ও সদকার মধ্যে প্রার্থক্য কী?


উত্তর : দান হচ্ছে কাউকে আপনি কোনো কিছু দিলেন সেটা। এটা দুই ধরনের হতে পারে। একটা হলো কিছুর বিনিময়ে দান করা আবার বিনিময় ছাড়াও দান হতে পারে। এই দুটোই দান করা। সদকা একটি ব্যাপক অর্থবোধক বিষয়। সদকা হলো এমন কাজ যেটা আপনি আপনার কল্যান বা সমাজের অন্য কারো কল্যান উদ্দেশ্য করে দিয়ে থাকেন সেটা। এটা দানের মাধ্যমে হতে পারে, সুপারিশের মাধ্যমে হতে পারে, কাজের মাধ্যমে হতে পারে। যে কাজটি ভালো ও কল্যানকর সেটাই সদকা। এই সদকা শুধু অর্থ দেওয়া বা দানের মাধ্যমে করবেন এমন নয়। এটির ব্যাপক অর্থ। আপনি যদি ছোট্ট একটু কথা দিয়েও কাউকে আনন্দ দিতে পারেন তাহলে সেটিও সদকা। সুতরাং সদকা হলো যে কোনো কল্যানকর কাজ। এটা পরিসর ব্যাপক।


৪.প্রশ্ন :  কোরআন পড়ার প্রতি আমার অনীহা হচ্ছে, এর কারণ কী? এখন আমার কী করা উচিত?


উত্তর : কোরআন পড়ার প্রতি কেন আপনার অনীহা সেটার কারণ আপনার নিজের মধ্যেই আছে। আমার মনে হচ্ছে, দুটি জিনিসে আপনি আসক্ত আছেন। একটি হলো, আপনি কঠিন পাপাচারে আসক্ত আছেন। দ্বিতীয়টি হলো, আল্লাহর ভয় এবং ঈমান যেভাবে জাগ্রত হওয়ার কথা সেভাবে আপনার জাগ্রত হয়নি। এজন্য আপনাকে বলব, আপনি ইসলামের চর্চা বেশি করে করুন, ঈমান আনার চেষ্টা করুন, হাদিস জানার চেষ্টা করুন। এগুলো দিয়ে নিজের অন্তরটা ঈমানে পরিপূর্ণ করার চেষ্টা করুন। কোরআন পাঠে অনীহা এটা ভয়ংকর কথা। এটা অনেক চিন্তার ব্যাপারও বটে। যে জন্য বলব, অপরাধ থেকে নিজেকে দূরে রাখার চেষ্টা করুন। এগুলোর জন্য আপনার ঈমান কমতে থাকে। ঈমান কমতে কমতে আর কিছু থাকে না। তখন আর কিছুই ভালো লাগবে না। এই বার্তা শুধু আপনার জন্য না, সবার জন্যই। সবচেয়ে বড় কথা হলো, গুনাহ থেকে সরে আসতে হবে।


(এনটিভির অনলাইন ডেস্ক -উত্তর দিয়েছেন বিশিষ্ট আলেম ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।)


Scorching Sun

No comments:

Post a Comment

শিশুর প্রতি মা বাবার ভালোবাসা ও দায়িত্ব

 গভীর রাত পর্যন্ত শিশুকে নিয়ে সজাগ থাকে বাবা-মা। যার ফলশ্রুতিতে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গঠন হয না। যা পরবর্তী জীবনের উপর প্রভাব ফেলে। ...