Sunday, 3 October 2021

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ঘুম অন্যতম একটি নিয়ামত।

 বিলাসিতা ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা

বিলাসিতা, উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও অতি ভোগে অন্তর আল্লাহভোলা হয়ে যায়। সীমাতিরিক্ত বিলাসী জীবন মুমিনের অন্তর কলুষিত করে দেয়।

ইবাদতের আগ্রহ নষ্ট করে ফেলে। মানুষকে চরম হতাশাগ্রস্ত করে তোলে। তাই অন্তরের শুদ্ধতার জন্য উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিলাসিতা দূর করে অল্পতে তুষ্ট থাকার মনোভাব লালন করতে হবে। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি ইসলামের দিকে হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে, যাকে প্রয়োজনমাফিক রিজিক প্রদান করা হয়েছে এবং যে তাতেই পরিতুষ্ট থাকে, সে-ই সফলকাম হয়েছে। ’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ৪১৩৮)


ভোজনবিলাস

স্বাস্থ্যের সুস্থতার জন্য পরিমিত খাবারের বিকল্প নেই। বেশি খাবার শারীরিক অসুস্থতার পাশাপাশি অন্তরকেও অসুস্থ করে তোলে। ইবাদত-বন্দেগিতে আলস্য ও অমনোযোগিতা চলে আসে। তাই শারীরিক ও আত্মিক সুস্থতার জন্য খাবার গ্রহণে সতর্কতা জরুরি। তা ছাড়া যারা হরেক রকম বিলাসী খাবারে অভ্যস্ত হয়ে আমলবিমুখ থাকবে, তাদের নিকৃষ্ট লোক আখ্যা দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমার উম্মতের মধ্য থেকে এমন লোকদের আবির্ভাব ঘটবে, যারা খাবে রকমারি খাবার, পান করবে রকমারি পানীয়, পরিধান করবে রকমারি পোশাক এবং তারা আবোলতাবোল বকবে। এরাই হবে আমার উম্মতের নিকৃষ্টতম লোক। ’ (সিললাতুল আহাদিসিস সহিহা, হাদিস : ৩৬৬৩)

তাই অন্তর ও দেহকে সুস্থ রাখতে অনিয়ন্ত্রিত, বিলাসী ও হারাম খাবার থেকে নিজেকে দূরে রাখতে হবে।


মাত্রাতিরিক্ত ঘুম

শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ঘুম অন্যতম একটি নিয়ামত। তবে অসময় ও বেশি ঘুম শারীরিকভাবে যেমন ক্ষতি করে, অন্তরেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই ইবাদত-বন্দেগির ক্ষেত্রে বেশি ঘুম প্রতিবন্ধক হয়। তা ছাড়া বেশি ঘুমে পরোক্ষভাবে শয়তানকেও খুশি করা হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার ঘাড়ের পশ্চাদাংশে তিনটি গিঁট দেয়। প্রতি গিঁটে সে এটা বলে চাপড়ায় যে তোমার সামনে আছে দীর্ঘ রাত। অতএব তুমি শুয়ে থাকো। অতঃপর সে যদি জাগ্রত হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে, একটি গিঁট খুলে যায়। অজু করলে আরেকটি গিঁট খুলে যায়। অতঃপর নামাজ আদায় করলে আরেকটি গিঁট খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয় উদ্যম ও আনন্দের। অন্যথায় সে প্রভাত করে অলস ও মনমরা হয়ে। (বুখারি, হাদিস : ১১৪২)

No comments:

Post a Comment

শিশুর প্রতি মা বাবার ভালোবাসা ও দায়িত্ব

 গভীর রাত পর্যন্ত শিশুকে নিয়ে সজাগ থাকে বাবা-মা। যার ফলশ্রুতিতে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠার অভ্যাস গঠন হয না। যা পরবর্তী জীবনের উপর প্রভাব ফেলে। ...