জুম্মার দিন কোন মুসলমান মারা গেলে অনেক মানুষ কে বলতে শোনা যায় অমুক মানুষটি ভালো দিনে মারা গেল। ভাল দিন বলতে এখানে জুম্মার দিন কে বোঝানো হয়ে থাকে আজ আমি আপনাদের সাথে জুম্মার দিনে মারা যাওয়া মানুষ সম্পর্কে হাদিসের ভাষ্য তুলে ধরার চেষ্টা করবো ইনশাআল্লাহ।
জুম্মার দিন যদি কারো মৃত্যু হয় তাহলে এই মৃত্যুর রয়েছে বিশেষ কোনো ফযিলত যেটা মহানবী (সঃ) কয়েকটি হাদিসে বর্ণনা করেছেন। তিরমিজি শরীফে বর্ণিত একটি হাদিসে বলা হয়েছে, যদি কোন মুসলিম জুম্মার দিনে অর্থ্যাৎ শুক্রবারে মৃত্যবরণ করেন অথবা জুম্মার রাতে মৃত্যুবরণ করেন অর্থ্যাৎ বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মৃত্যবরণ করেন তাহলে সেক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা মৃতব্যাক্তির কবরের আজাব থেকে হেফাজাত করেন।
হাদিসটি হযরত আব্দু্ল্লাহ ইবনে আমর (র.) সুত্রে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেন- নবী পাক (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, যেকোনো মুসলমান জুম্মার দিনে অথবা রাতে মৃত্য বরণ করবে আল্লাহ তায়ালা তাকে কবরের ফিতনা থেকে বাচিয়ে রাখেবেন।। ( মুসনাদে আহমদ ১১/১৪৭,তিরমিজি হাদিস নাং ১০৭৪)
উপরোক্ত হাদিস থেকে আমরা জানতে পারলাম যে শুক্রবার দিনে অথবা বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তার মানে হলো বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা হলে সূর্য ডুবে গেলে তখন থেকে নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত এই সময়ে মধ্যে কোনো মুসলিম ব্যাক্তির মৃত্যু হলে সেক্ষেত্রে আল্লাহ তায়ালা তাকে বিশেষ মর্যাদা দিয়ে থাকেন তাকে (মৃত্যু ব্যাক্তি কে) কবরের আজাব থেকে ফেতনা থেকে মুক্তি লাভ করিয়ে থাকেন। আর কেউ যদি কবরের অজাব থেকে মুক্তি লাভ করতে পারেন তাহলে তার মত সৌভাগ্যবান আর কে আছে, কবরের বিষয়টি তার দুনিয়াবি কাজের জন্য এবং তার কবরের প্রশ্নোত্তর পরীক্ষার বিষয়টি যদি কোন ব্যক্তির সহজ হয়ে যায় তাহলে কিয়ামতের হিসাবের দিনের হাশরের দিনের যে হিসেব নিকাশ তার জন্য অপেক্ষা করছে সেটি আরো বেশি সহজ হয়ে যাবে এটাও আশা করা যায়।
এই বিষয়টি তিরমিজি এবং ইবনে মাজাহ বর্ণিত হাদিসে উসমান ইবনে আওফান (রাঃ) বলেন- রাসুল (সাঃ) বলেছেন- কবর হলো আখিরাতের ঘাটি গুলোর মধ্যে প্রথম ঘাটি। এই ঘাটিতে যদি কারো জন্য প্রশ্নোত্তর কে সহজ করে দেওয়া হয় এই ঘাটিতে যদি কেই কোন বড় বিপদে না পড়েন অর্থ্যাৎ সহজেই পার পেয়ে যান তাহলে পরবর্তী ধাপগুলো ও তিনি সহজেই উত্তীর্ণ হতে পারবেন, সেই আশা করা যায়। (সুত্র:- শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী রহ.আহকামুল জানাইয গ্রন্থ পৃষ্টা -৫০ বঙ্গানুবাদ মিশকাত ১২৫ হাদিস)
আর যদি কবরের ঘাটি কারো জন্য কঠিন হয়ে যায় তাহলে পরবর্তী যে ধাপগুলো রয়েছে সে ধাপগুলো আরো কঠিন হবে। ( তিরমিজি ২৩০৮)
এই হাদিসগুলোর আলোকে জুম্মার দিনে কারো মৃত্যু হলে সেটা নিঃসন্দেহে একটি ভালো বা শুভ সংকেত। অর্থ্যৎ বলা যায় সেই ব্যক্তি ভালো মৃত্যু বরণ করলেন এবং এর ফলে তার আখিরাতের প্রতিটি ধাপ তার জন্য সহজ হবে আশা করা যায়।
তবে একটি কথা মনে রাখতে হবে, আমরা নিশ্চিত করে বলতে পারি না যে জুম্মার দিনে কেউ মৃত্যু বরণ করলে তিনি সরাসরি জান্নাতে যাবেন। তবে সেই মৃত ব্যক্তির জন্য আমাদের সু ধারণা রাখা যেতে পারে যদি তার আমল ভালো হয়।
সুতরাং জীবনদ্দশায় ভাল মৃত্যুর জন্য যে আমলগুলো আচে যে আমলগুলো করলে আমরা ভালো মৃত্যু লাভ করতে পারি। সে আমলগুলো করতে হবে সবসময় তাকওয়ার উপর চলতে থাকা, ঈমানের উপর চলতে থাকা ভালো কাজের উপর নিজেকে গড়ে তোলা এবং নিজেকে সৎকাজে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করে যেতে হবে আমাদের।
আল্লাহ তায়ালার নিকট খাস করে দোয়া করতে হবে আল্লাহ যেনো আমাদের খারাপ মৃত্যু না দেন যেমন একটা মৃত্যু উদাহরণ হলো আকস্মিক মৃত্যু বরণ করা। সেটা হতে পারে কোনো দূর্ঘটনার কারণে বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক দূযোর্গের কারণে। এক্ষেত্রে যিনি আকস্মিক মৃত্যু বরণ করেণ সে ব্যক্তি তওবা করার শেষ সুযোগ টা হারায়।
কেই যদি ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু বরণ করে অথবা মৃত্যু বরণের পূর্বে কিছুটা সময় পায় সেক্ষেত্রে সেই ব্যক্তি আল্লাহ’র কাছে তওবা করার সুযোগ পেতে পারেন।
মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের যেন মৃত্যুর সময় কালেমা পড়ার তৌফিক নসিব করেন এবং আমরা যেন মৃত্যুর আগে তওবার সুযোগ পাই সে জন্য প্রতিদিন আমাদের ৭০ থেকে ১০০ বার ইস্তেগফার পড়তে হবে। তাহাজ্জুদ পড়ে আল্লাহ’র কাছে সাহয্য চাইতে হবে তওবা করতে হবে। আল্লাহ আমাদের সকল কে সেই তৌফিক দান করেন আমিন।
No comments:
Post a Comment